বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ মহেশখালীর দুটি ভাসমান টার্মিনাল (এফএসআরইউ) থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ প্রায় স্বাভাবিক হওয়ায় দেশের সার্বিক গ্যাস সংকটে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। দীর্ঘ দুই মাসের তীব্র ভোগান্তি কাটিয়ে অবশেষে সংকটপূর্ব অবস্থায় ফিরেছে সরবরাহ ব্যবস্থা, যার ফলে শিল্প-কারখানা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের চাপ কিছুটা বেড়েছে।
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে দৈনিক মোট সরবরাহ পৌঁছেছে ২৬১ কোটি ঘনফুটে (এমএমসিএফডি)। এর মধ্যে দুটি ভাসমান টার্মিনাল থেকেই আসছে ৯৯ কোটি ঘনফুট এবং দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে পাওয়া যাচ্ছে ১৬২ কোটি ঘনফুট।
একটি ভাসমান টার্মিনালে আকস্মিক কারিগরি ত্রুটি দেখা দিলে দেশে এলএনজি সরবরাহ থমকে দাঁড়ায়। আগস্টে গড় সরবরাহ নেমে আসে মাত্র ২২৩.৫ কোটি ঘনফুটে, যা নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী ও গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলগুলোকে স্থবির করে ফেলেছিল।
আগে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো গড়ে ৮৭ কোটি ঘনফুট গ্যাস পেলেও বর্তমানে তা বেড়ে ৯৫ কোটি ঘনফুটে উন্নীত হয়েছে। পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) তথ্যমতে, গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন আবার ৫,৪৭৪ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে (যা সংকটের সময়ে ৫,০০০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে গিয়েছিল)।
সম্প্রতি শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের সাথে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে মঙ্গলবার সন্ধ্যা নাগাদ গ্যাস-বিদ্যুৎ পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হবে। পেট্রোবাংলার সাম্প্রতিক তথ্য সেই আশ্বাসের বাস্তব প্রতিফলন ঘটিয়েছে।
সরবরাহ বাড়লেও দেশের দীর্ঘদিনের গ্যাস সংকট পুরোপুরি কাটেনি। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, দেশে দৈনিক মোট চাহিদা ৩৮৬ কোটি ঘনফুট। বর্তমান ২৬১ কোটি ঘনফুট সরবরাহের পরও দৈনিক ১২৫ কোটি ঘনফুট (মোট চাহিদার প্রায় ৩২ শতাংশ) ঘাটতি থেকে যাচ্ছে।
দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন কমে ১৬০ কোটি ঘনফুটে নামায় দেশের জ্বালানি খাত এখন অনেকটাই এলএনজি আমদানিনির্ভর। কিন্তু কাতার থেকে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় স্পট মার্কেট থেকে চড়া দামে এলএনজি কিনতে বাধ্য হচ্ছে বাংলাদেশ। যুদ্ধের কারণে পূর্বে যেখানে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম ছিল ১০-১২ ডলার, বর্তমানে তা প্রায় ৩০ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। ফলে সরবরাহ সাময়িক বাড়লেও চড়া আমদানিমূল্য ও দীর্ঘমেয়াদি ঘাটতি সরকারের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

