আশুলিয়ায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: ১৭টি ঝুট গোডাউন ও কলোনি ভস্মীভূত, রিকভারিতে ফায়ার সার্ভিসের ৫ ইউনিট

0
আশুলিয়ায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: ১৭টি ঝুট গোডাউন ও কলোনি ভস্মীভূত, রিকভারিতে ফায়ার সার্ভিসের ৫ ইউনিট

সাভার প্রতিনিধি: ঢাকার আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চল জামগড়ায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাত পৌনে ১০টার দিকে একটি ঝুট গোডাউন থেকে সূত্রপাত হওয়া এই আগুন মুহূর্তের মধ্যে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ১৭টি ঝুট গোডাউন, গার্মেন্টস এক্সেসরিজের দোকান এবং সংলগ্ন কলোনির বেশ কিছু বসতবাড়ি আগুনে সম্পূর্ণ ও আংশিক ভস্মীভূত হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোডাউনগুলোতে প্লাস্টিক, ঝুট, প্যান্টের তৈরি কাপড় ও দাহ্য পদার্থ মজুদ থাকায় আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিস আসার আগেই স্থানীয় বাসিন্দারা বালু ও পানি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা চালান, কিন্তু আগুনের তাপে পার্শ্ববর্তী কয়েকটি আবাসন কলোনিতেও শিখা ছড়িয়ে পড়ে।

ক্ষতিগ্রস্ত গোডাউন মালিক মো. ইমন জানান, “ঘটনাস্থলে আমাদের মোট ১৭টি দোকান ও গোডাউন ছিল। বাম পাশের ৩-৪টি আংশিক বাঁচানো গেলেও বাকি সবকটি গোডাউনের মূল্যবান এক্সেসরিজ, কাপড় ও ঝুট পুড়ে একেবারে ছাই হয়ে গেছে।” অগ্নিকাণ্ডে বিপুল আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।

অগ্নিসংযোগের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের রেসপন্স টিম দ্রুত রওনা হলেও বাইপাইল-জামগড়া প্রধান সড়কে চরম যানজটের কারণে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে ফায়ার সার্ভিসের গাড়িগুলোকে কিছুটা বেগ পেতে হয়।

পরবর্তীতে জিরাবো ফায়ার স্টেশন থেকে ৩টি ইউনিট এবং ইপিজেড ফায়ার স্টেশন থেকে আরও ২ টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে সম্মিলিতভাবে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা হওয়ায় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস যৌথভাবে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেয়।

জিরাবো ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার শাহাবুদ্দিন জানান, ঘনবসতি এবং প্রচুর দাহ্য পদার্থ থাকার কারণে আগুন পুরোপুরি নেভাতে সময় লাগছে। তবে ফায়ার সার্ভিসের নিরলস প্রচেষ্টায় আগুনের প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে।

আশুলিয়া জামগড়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (এসআই) আবু তালেব জানান, খবর পাওয়ার পর পরই পুলিশ এলাকাটি ঘিরে ফেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করে। সৌভাগ্যবশত, এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ বা মোট ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত পরিমাণ জানা যায়নি। ফায়ার সার্ভিসের ডাম্পিং ডাউনের (অবশিষ্ট অংশ নেভানোর) কাজ শেষ হলে তদন্ত সাপেক্ষে ক্ষয়ক্ষতির আসল চিত্র ও অগ্নিকাণ্ডের উৎস জানা যাবে।