কলাপাড়া প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পূর্বশত্রুতার জেরে একটি মাছের ঘেরে বিষ প্রয়োগ করে প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি করার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার বালিয়াতলী ইউনিয়নের লেমুপাড়া গ্রামে বেড়িবাঁধসংলগ্ন চার একর জমির ওই ঘেরে এ ঘটনা ঘটে।
মাছচাষিদের অভিযোগ, শুক্রবার রাত আনুমানিক ১০টা থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত কোনো একসময় দুর্বৃত্তরা ঘেরে প্রবেশ করে বিষ প্রয়োগ করে। এতে রুই, কাতলা, গ্লাস কার্প, মৃগেল, চিংড়ি, কোরাল ও বোয়ালসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মারা যায়। পাশাপাশি প্রায় ২ লাখ টাকার মাছ নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ করেছেন তাঁরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঘেরের পানিতে মরা মাছ ভেসে উঠছে। কিছুক্ষণ পরপর আরও মাছ মরে ভেসে উঠতে দেখা যায়। এতে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন মাছচাষিরা।
স্থানীয় কয়েকজন জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও মঞ্জু সিকদার ও সজীব তালুকদার ওই ঘেরে মাছ চাষ করছেন। তাঁদের দাবি, ঘটনার খবর পেয়ে ঘেরের কাছে গিয়ে তাঁরা মাছ মরে ভেসে উঠতে দেখেন। পরে কিছু মাছ সংগ্রহ করেন।
ঘেরের মাছচাষি সজীব তালুকদার অভিযোগ করে বলেন, শুক্রবার রাতে ঘের পাহারা দেওয়ার সময় হঠাৎ পানিতে কিছু ছিটানোর শব্দ শুনতে পান তিনি। চারদিকে লাইট জালাতেই বকু তালুকদার, মুসফিক তালুকদার, জাহাঙ্গীর হোসেন, ফোরকান মাঝি ও আনোয়ার গাজীকে ঘেরে ওষুধ প্রয়োগ করতে দেখেন বলে তাঁর দাবি। পরে স্থানীয় আরও দুজনকে ডেকে তাঁদের আটকানোর চেষ্টা করেন। তবে তাঁদের হাতে দেশীয় অস্ত্র থাকায় তাঁরা পিছু হটতে বাধ্য হন। সকালে ঘেরের মাছ মরে ভেসে উঠতে দেখে তিনি হতবাক হয়ে যান। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
অপর মাছচাষি মঞ্জু সিকদার বলেন, তাঁরা প্রায় ২০ বছরের বেশি সময় ধরে ওই ঘেরে মাছ চাষ করছেন। জমিজমা নিয়ে বকু তালুকদারের সঙ্গে তাঁদের বিরোধ রয়েছে। সেই বিরোধের জের ধরে ঘেরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধন করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, এর আগেও বকু তালুকদার তাঁদের ঘেরে বিষ প্রয়োগ করেছিলেন এবং বিভিন্ন সময়ে হুমকি দিয়ে আসছিলেন। এ ঘটনায় তাঁদের প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানান তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে বকু তালুকদারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো নজরুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

