গোপালগঞ্জে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ফিল্ম স্টাইলে তাণ্ডব: পুলিশের গাড়িতে হামলা, ভিডিও ফেসবুকে প্রচার!

0
গোপালগঞ্জে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ফিল্ম স্টাইলে তাণ্ডব: পুলিশের গাড়িতে হামলা, ভিডিও ফেসবুকে প্রচার!

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধিঃ নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী তৎপরতা ও আইন অমান্য করার প্রবণতা যেন থামছেই না। গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে নজিরবিহীন হামলা চালানো হয়েছে। টহলরত পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুর এবং দুই পুলিশ সদস্যকে বেধড়ক মারধরের ঘটনা ঘটেছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই বর্বরোচিত হামলার পর উল্লাস প্রকাশ করে সেই ভিডিও নিজেরাই নিজেদের ফেসবুক আইডিতে ছড়িয়ে দিয়েছে অভিযুক্ত নেতাকর্মীরা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেলে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার রঘুনাথপুর চরপাড়া সড়ক থেকে হঠাৎ করেই লাঠিসোটা হাতে একটি মিছিল বের করে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও যুবলীগের বেশকয়েকজন নেতাকর্মী। মিছিলটি রঘুনাথপুর খেয়াঘাট এলাকায় পৌঁছালে সেখানে কর্তব্যরত টহল পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি হয়।

কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই উগ্র নেতাকর্মীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর চড়াও হয় এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে অতর্কিত ইটপাটকেল ও লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায়। এ সময় তারা পুলিশের পিকআপ ভ্যানটি ভাঙচুর করে মারাত্মক ক্ষতি সাধন করে।

হামলাকারীদের অতর্কিত এই আগ্রাসনে গোপালগঞ্জ সদর থানার এসআই মো. ফুলমিয়া এবং এক পুলিশ কনস্টেবল আহত হন। তাদের ওপর চড়াও হয়ে বেধড়ক মারপিট করা হয়। অত্যন্ত ধৃষ্টতাপূর্ণ বিষয় হলো, এই সন্ত্রাসী ঘটনার পর লজ্জা বা অনুশোচনা না করে উল্টো অপরাধীরা নিজেদের ফেসবুক আইডিতে হামলার সেই ভিডিও আপলোড করে আস্ফালন দেখায়।

ঘটনার পর পরই জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দ্রুত অতিরিক্ত ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে এই নজিরবিহীন সহিংসতার পর থেকে পুরো রঘুনাথপুর এলাকায় চরম আতঙ্ক ও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। নিরাপত্তার স্বার্থে এলাকার অধিকাংশ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গোপালগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম জানান, “নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা পরিকল্পিতভাবে মিছিল থেকে অতর্কিত হামলা চালিয়ে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করেছে এবং আমাদের দুই পুলিশ সদস্যকে আহত করেছে। এই ন্যক্কারজনক ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেফতারে সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অপরাধীদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”