মাগুরা প্রতিনিধিঃ মাগুরার শ্রীপুর উপজেলায় বাবার বাড়িতে বেড়াতে এসে নিখোঁজ হওয়া লিমা খাতুন (২৩) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজের ১২ ঘণ্টা পর আজ বুধবার (১ এপ্রিল) সকালে বাড়ির পাশের একটি মাঠ থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।
নিহত লিমা খাতুন শ্রীপুর উপজেলার বড় উদাস গ্রামের আব্দুল হাইয়ের মেয়ে। তার স্বামীর নাম সুজন মিয়া, যিনি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হাট গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সন্ধ্যায় লিমা খাতুন ছোট উদাস গ্রামে তার বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসেন। ওইদিন রাত আনুমানিক ৮টার দিকে তিনি ঘর থেকে বের হওয়ার পর আর ফিরে আসেননি। স্বজনরা রাতভর সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো হদিস পাননি।
বুধবার সকাল ১১টার দিকে স্থানীয় গ্রামবাসী মাঠের মধ্যে একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। পরে স্বজনরা গিয়ে সেটি নিখোঁজ লিমার দেহ বলে শনাক্ত করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকার চিহ্নিত কিছু সন্ত্রাসী যুবক লিমাকে নির্জন স্থানে তুলে নিয়ে ধর্ষণের পর আলামত মুছে ফেলতে তাকে হত্যা করে ফেলে রেখে গেছে। এই ঘটনায় পুরো গ্রামে শোকের ছায়া ও তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
খবর পেয়ে শ্রীপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মাগুরা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীন মিয়া জানান, “খবর পাওয়ার পরপরই আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছি। মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। এটি হত্যাকাণ্ড কি না বা অন্য কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না, তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। অপরাধীদের শনাক্ত করতে আমরা ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছি।”
এই ঘটনায় লিমার পরিবারের পক্ষ থেকে শ্রীপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার নেপথ্যে থাকা আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

