যশোর প্রতিনিধিঃ যশোরের অভয়নগরে পারিবারিক কলহের জেরে মাসুরা বেগম (১৯) নামে এক গৃহবধূর ওপর এসিড নিক্ষেপের ঘটনায় তার স্বামী ও শ্বশুরসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (১ এপ্রিল) দিবাগত রাতে উপজেলার সিদ্ধিপাশা ইউনিয়নের বিলকুল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাত্র সাত মাস আগে সিদ্ধিপাশা গ্রামের আল আমিন শেখের সঙ্গে মাসুরা বেগমের বিয়ে হয়। অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের পর থেকেই স্বামী আল আমিন, শ্বশুর মিলন শেখ এবং শাশুড়ি রওশন আরা বেগম মাসুরাকে ডিভোর্স দেওয়ার জন্য শারীরিক ও মানসিকভাবে চাপ দিচ্ছিলেন।
গত ১৫ মার্চ রাতে পরিকল্পিতভাবে মাসুরাকে ঘুমের ওষুধ মিশ্রিত কোমল পানীয় পান করিয়ে অচেতন করা হয়। এরপর পাষণ্ডরা তার পা ও যৌনাঙ্গে এসিড নিক্ষেপ করে। ঘটনার কয়েকদিন পর গত ২১ মার্চ মাসুরা গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বাবার বাড়ি ফিরে গেলে এই নৃশংসতার বিষয়টি জানাজানি হয়।
অভয়নগর থানার ওসি (তদন্ত) জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, ভুক্তভোগীর মা রোজিনা বেগম বাদী হয়ে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করার পরপরই পুলিশ অভিযানে নামে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন আল আমিন শেখ (২২) ভুক্তভোগীর স্বামী। মিলন শেখ (৪৫) শ্বশুর। মুরসালিন (৩৩) সহযোগিতার অভিযোগে অভিযুক্ত প্রতিবেশী।
ওসি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃত তিনজনকে বুধবার বিকেলেই যশোর আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার চার নম্বর আসামি, মাসুরার শাশুড়ি রওশন আরা বেগম বর্তমানে পলাতক রয়েছেন; তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।
বর্তমানে মাসুরা বেগম আশঙ্কাজনক অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ভুক্তভোগীর মা রোজিনা বেগম কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “মেয়ের চিকিৎসা করাতে গিয়ে মামলা করতে কিছুটা দেরি হয়েছে। যারা আমার মেয়ের জীবন এভাবে বিষিয়ে দিয়েছে, আমি তাদের কঠোরতম শাস্তি চাই।”
এসিড নিক্ষেপ একটি ঘৃণ্য অপরাধ। বাংলাদেশে এসিড অপরাধ দমন আইন অনুযায়ী এর সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। জনমনে প্রশ্ন জাগছে, এই বর্বরতা আর কতদিন? এসিডের অবাধ কেনাবেচা রোধে প্রশাসনের আরও কঠোর হওয়া প্রয়োজন।

