ডিমলায় কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: পুলিশের জালে মূল হোতাসহ দুই অভিযুক্ত

0
ডিমলায় কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: পুলিশের জালে মূল হোতাসহ দুই অভিযুক্ত

নীলফামারী প্রতিনিধিঃ নীলফামারীর ডিমলায় কিশোরীকে তুলে নিয়ে ভুট্টাক্ষেতে বর্বরোচিত সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলার সব আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মঙ্গলবার (৫ মে) রাতে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা থেকে মামলার প্রধান পলাতক আসামি কাজল রানাকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুই অভিযুক্তই এখন শ্রীঘরে।

মঙ্গলবার রাত পৌনে ৯টার দিকে লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার একটি এলাকায় যৌথ অভিযান চালায় র‍্যাব-১৩ এবং ডিমলা থানা পুলিশ। সেখান থেকে মামলার অন্যতম আসামি কাজল রানাকে (২১) গ্রেপ্তার করা হয়। সে আত্মগোপন করার উদ্দেশ্যে এক আত্মীয়র বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিল।

এর আগে মামলার অপর আসামি মুন্না ইসলাম মান্নানকে (২৪) ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিমলা থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) ঠাকুর দাস।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী কিশোরীটি উপজেলার তালতলা সরকারপাড়া গ্রামে তার নানির বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করত। গত ৫ এপ্রিল সকালে তার মা ও নানি চিকিৎসার প্রয়োজনে রংপুরে গেলে বাড়িটি ফাঁকা হয়ে যায়।

দুপুর ২টার দিকে একা পেয়ে কাজল ও মুন্না তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় পাশের একটি নির্জন ভুট্টাক্ষেতে। সেখানে তার মুখে কাপড় বেঁধে সন্ধ্যা পর্যন্ত পালাক্রমে ধর্ষণ করে অভিযুক্তরা। সন্ধ্যা গড়িয়ে গেলে স্থানীয়রা রক্তাক্ত ও মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করেন। ওই রাতেই কিশোরীর পরিবার বাদী হয়ে ডিমলা থানায় মামলা দায়ের করে।

ঘটনাটিকে অত্যন্ত স্পর্শকাতর হিসেবে অভিহিত করে ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী সরকার জানান, মামলার তদন্তে কোনো প্রকার শিথিলতা দেখানো হচ্ছে না। তিনি উল্লেখ করেন ভুক্তভোগীর পরিধেয় বস্ত্র থেকে সংগৃহীত আলামতের (শুক্রাণু) সঙ্গে আসামিদের ডিএনএ পরীক্ষার প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনার সময় আসামিদের অবস্থান ও ডিজিটাল সাক্ষ্য নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে এবং দ্রুততম সময়ে চার্জশিট দাখিলের প্রস্তুতি চলছে।

এলাকাবাসী ও স্বজনরা এই নৃশংস ঘটনার দ্রুত বিচার এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার শিকার কিশোরীকে যথাযথ চিকিৎসাসেবা ও আইনি সুরক্ষা প্রদান করা হচ্ছে।