আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ বিশ্বরাজনীতিতে চরম নাটকীয় মোড়! যখন মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে সর্বাত্মক যুদ্ধের রণপ্রস্তুতি চলছিল, ঠিক তখনই নেপথ্যে একটি ‘গোপন সমঝোতা’র দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য—ওয়াশিংটন ও তেহরানের এই সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে বিন্দুবিসর্গও জানত না তেল আবিব।
ইসরাইলি গোয়েন্দা ও সামরিক সূত্রগুলো যখন লড়াই আরও বাড়ানোর (Escalation) ছক কষছিল, তখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের ইতি টানার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গেছেন। ইসরাইলি একটি সূত্রের দাবি, তারা এই আলোচনা সম্পর্কে সম্পূর্ণ অন্ধকারে ছিল। বরং ইসরাইল যুদ্ধের তীব্রতা বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঠিক সেই মুহূর্তে ট্রাম্পের এই সমঝোতা তাদের জন্য বড় এক বিস্ময় হিসেবে এসেছে।
রয়টার্স ও অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি এক পৃষ্ঠার সমঝোতা স্মারক (MoU) সইয়ের সন্নিকটে। এই চুক্তির মূল কারিগর ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ এবং তাঁর জামাতা জ্যারেড কুশনার।
সম্ভাব্য শর্তগুলো হলো ইরান অন্তত ১৫ বছরের জন্য তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি স্থগিত রাখবে। বিনিময়ে তারা ৩.৬৭% পর্যন্ত নিম্ন মাত্রার সমৃদ্ধকরণ করতে পারবে। যুক্তরাষ্ট্র ধাপে ধাপে ইরানের ওপর থেকে সব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে এবং জব্দ করা কয়েক বিলিয়ন ডলার ফেরত দেবে। ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের বিধিনিষেধ তুলে নেবে এবং বিনিময়ে মার্কিন নৌবাহিনী তাদের অবরোধ সরিয়ে নেবে। জাতিসংঘ পরিদর্শকরা যেকোনো সময় ইরানের স্থাপনায় ‘স্ন্যাপ ইন্সপেকশন’ বা আকস্মিক পরিদর্শন করতে পারবেন।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালিতে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা স্থগিত করেছেন। প্রাথমিক এমওইউ সই হলে উভয় পক্ষ ৩০ দিনের নিবিড় আলোচনায় বসবে। এই আলোচনার সম্ভাব্য ভেন্যু হতে পারে ইসলামাবাদ অথবা জেনেভা। যদি ৩০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ চুক্তি না হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় নৌ-অবরোধ বা সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার রাখবে।
সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, তেহরান তাদের কাছে থাকা উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে সরিয়ে নিতে রাজি হতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে। এতদিন ইরান এই শর্তে ঘোর বিরোধী থাকলেও বর্তমান অর্থনৈতিক ও সামরিক প্রেক্ষাপটে তারা নমনীয় অবস্থান নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
চুক্তিটি যতটা আশাব্যাঞ্জক, ততটাই ঝুঁকিপূর্ণ। হোয়াইট হাউসের মতে, ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব অভ্যন্তরীণভাবে বিভক্ত। ফলে চুক্তির শর্তাবলি নিয়ে তেহরানের ভেতরে ঐকমত্য তৈরি করা কঠিন হতে পারে। এছাড়া ইসরাইল এই চুক্তিতে অংশীদার না থাকায় আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা কতটুকু স্থায়ী হবে, তা নিয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যেই সংশয় রয়েছে।
আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তেহরানের পক্ষ থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ জবাব আশা করছে ওয়াশিংটন। যদি সবকিছু ঠিকঠাক থাকে, তবে মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসের অন্যতম বড় মোড় পরিবর্তনকারী ঘটনা হতে যাচ্ছে এই ‘ট্রাম্প-ইরান ডিল’।

