বিমল কুন্ডু : সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার গালা ইউনিয়নের মারজান গ্রামে হৃদয় নামে ৫ বছরের শিশুকে কুপিয়ে হত্যার ২১ দিন পর প্রধান আসামি সহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ । তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় গত বৃহস্পতিবার (৭মে) রাতে সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মশালা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, হামিদ সরদার, পেশকার সরদার ও লাল মিয়া সরদার। এরা ৩ জনই নিহত হৃদয়ের সম্পর্কে আপন চাচা।
জানা গেছে, মারজান গ্রামের মৃত হাতেম আলীর ছেলেদের মধ্যে বাড়ির সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। একপর্যায়ে গত ১৬ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সকালে বাড়িতে টয়লেট নির্মাণের জন্য হামিদ সরদার তার ভাই ফারুক সরদারের গোয়াল ঘর ঘেসে মাটি কাটছিল। এসময় ফারুক সরদার মাটি কাটায় বাধা দিলে উভয়ের মধ্যে প্রথমে বাকবিতন্ডা ও পরে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে হামিদ সরদার, তার অপর ৩ ভাই ও ভাতিজারা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ফারুক সরদারের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় ফারুক সরদার ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেলে হামলাকারীরা ৫ বছরের শিশু ভাতিজা মাহাতাব হোসেন হৃদয়কে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে আশংকাজনক অবস্থায় হৃদয়কে হাসপাতালে পথে সে মারা যায়। খবর পেয়ে শাহজাদপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহত শিশুর লাশ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা ফারুক সরদার বাদী হয়ে একইদিন ৬ জনকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। হত্যাকান্ডের পর থেকে আসামিরা বাড়িঘর ছেড়ে সপরিবারে পলাতক ছিল।
শনিবার ( ৯ মে) থানার অফিসার ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম জানান, হত্যাকাণ্ডের পর থেকে পলাতক থাকা আসামিরা ঘন ঘন অবস্থান পরিবর্তন করায় তাদের গ্রেপ্তার করতে সমস্যা হচ্ছিল। তিনি জানান তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত বৃহস্পতিবার রাতে প্রধান আসামি সহ ৩ জনকে সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মশালা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, গ্রেফতারকৃতদের দুপুরে শাহজাদপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে আদালতের বিচারক মোঃ মোসলেম উদ্দিন আসামিদের সিরাজগঞ্জ জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

