বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের পর গর্ভপাত, মুদি দোকানদার গ্রেপ্তার

0
বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের পর গর্ভপাত, মুদি দোকানদার গ্রেপ্তার

বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ বাগেরহাটের ফকিরহাটে এক ১৬ বছর বয়সী বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের ফলে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই নজিরবিহীন ও নৃশংস ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে রাছেক শেখ ওরফে সাইজে (৬৫) নামে এক স্থানীয় মুদি দোকানদারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ শনিবার (২৩ মে) তাকে নিজ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অভিযুক্ত রাছেক শেখ এবং ভুক্তভোগী কিশোরী উভয়েই উপজেলার সাতশৈয়া এলাকার বাসিন্দা। এই ঘটনায় আজ শনিবার সকালে ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে ফকিরহাট মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার বিবরণী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরীটি বেশ কিছুদিন ধরে শারীরিক পরিবর্তন, ক্রমাগত বমি ভাব ও তীব্র অসুস্থতায় ভুগছিল। তার এই অস্বাভাবিক লক্ষণগুলো দেখে মায়ের মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। গতকাল শুক্রবার (২২ মে) বাড়িতে এনে ‘প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট’ দিয়ে পরীক্ষা করা হলে কিশোরীটির গর্ভধারণের বিষয়টি প্রথম ধরা পড়ে।

পরবর্তীতে ঘটনার সুনিশ্চিত প্রমাণের জন্য পরিবারের সদস্যরা তাকে উপজেলার একটি স্থানীয় ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যান। সেখানে একজন অভিজ্ঞ গাইনি চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে আল্ট্রাসনোগ্রাম করানো হলে গর্ভধারণের শতভাগ সত্যতা মেলে। এরপর পরিবারের সদস্যরা স্নেহভরে ও কৌশলে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে অভিযুক্ত বৃদ্ধের নাম প্রকাশ করে। এদিকে, মানসিক ও শারীরিক চাপে ওই কিশোরীর আকস্মিক গর্ভপাত ঘটলে একটি মানবভ্রূণ নির্গত হয়। নৃশংস এই অপরাধের উপযুক্ত প্রমাণের জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে ভ্রূণটি বর্তমানে নিরাপদ হেফাজতে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী কিশোরীর ছোট ভাই স্থানীয় একটি হাফিজিয়া মাদ্রাসার আবাসিক ছাত্র। পরিবারের পক্ষ থেকে নিয়ম করে প্রতিদিন ওই মাদ্রাসায় তার জন্য দুপুরের খাবার পাঠানো হতো। মাঝেমধ্যে ওই কিশোরীও তার ভাইয়ের জন্য দুপুরের খাবার নিয়ে মাদ্রাসার উদ্দেশ্যে রওনা হতো।

মাদ্রাসায় যাতায়াতের সেই সড়কের পাশেই অভিযুক্ত রাছেক শেখের একটি মুদি দোকান রয়েছে। গত মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহের কোনো এক নির্জন দুপুরে, ভাইয়ের কাছে খাবার পৌঁছে দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে রাছেক শেখ ওই কিশোরীকে চতুরতার সাথে ফুসলিয়ে নিজ দোকানের ভেতরে নিয়ে যায় এবং পাশবিকভাবে ধর্ষণ করে। ঘটনার পর বিষয়টি কাউকে জানালে প্রাণনাশের ভয়ভীতি দেখানো হয়, যার ফলে লোকলজ্জা ও আতঙ্কে এতদিন বিষয়টি সে কাউকে জানাতে সাহস পায়নি বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

ফকিরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “এক প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ ও জোরপূর্বক অন্তঃসত্ত্বা করার গুরুতর অভিযোগে থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। আমরা দ্রুত অভিযান চালিয়ে মামলার একমাত্র এজাহারনামীয় আসামি রাছেক শেখকে গ্রেপ্তার করেছি।”

তিনি আরও জানান, অপরাধের অকাট্য প্রমাণ নিশ্চিত করতে উদ্ধারকৃত মানবভ্রূণ এবং ভুক্তভোগীর ডিএনএ প্রোফাইলিং পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হবে। ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে পেলেই এই জঘন্য অপরাধের পেছনের আসল রহস্য এবং বৈজ্ঞানিক প্রমাণ আদালতের সামনে উপস্থাপন করা সম্ভব হবে। আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করার আইনি প্রক্রিয়া চলছে।