বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ রাজধানীর পুরান ঢাকার সদরঘাট এলাকায় ইস্ট বেঙ্গল সুপার মার্কেটে চাঁদাবাজির টাকা ভাগাভাগি ও পূর্বশত্রুতার জেরে দুই গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে মার্কেটের ভবনে এই সংঘর্ষে কাপড় কাটার কাঁচির আঘাতে মিতুল (২০) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। সংঘর্ষের পরপরই সূত্রাপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে ১০ জনকে আটক করেছে।
নিহত মিতুল ঝালকাঠির সদর উপজেলার সাহাবাঙ্গল গ্রামের মো. রাসেল সরদারের ছেলে। তিনি ইস্ট বেঙ্গল সুপার মার্কেটের একজন বিক্রয়কর্মী ছিলেন এবং ওই ভবনের ১৩ তলায় বসবাস করতেন। তিনি কোতোয়ালি থানার ৩৭ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য ও সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শ্রমিক দলের আহ্বায়ক মো. সুমন ভূঁইয়ার অনুসারী সাবেক যুবদল নেতা সোবহান এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক কিরণ গ্রুপের মধ্যে কোতোয়ালি থানা যুবদলের পদপ্রত্যাশা এবং ইস্ট বেঙ্গল মার্কেটের চাঁদাবাজির টাকা ভাগাভাগি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।
এরই জেরে শনিবার রাতে দুই গ্রুপের সমর্থকদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা ও একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষ চলাকালে দুর্বৃত্তরা মিতুলকে লক্ষ্য করে দেশীয় অস্ত্র ও কাপড় কাটার কাঁচি দিয়ে সজোরে বুকে আঘাত করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হলে উদ্ধার করে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালে নেওয়া হয়, কিন্তু সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিচার ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে নিহতের স্বজন এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক ও ছাত্রদলের ৮০ থেকে ১০০ জন নেতাকর্মী মিটফোর্ড হাসপাতাল এলাকায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ ও বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।
মো. সুমন ভূঁইয়া (আহ্বায়ক, মহানগর দক্ষিণ শ্রমিক দল) ঘটনায় নিজের জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে বলেন, “তারা আমার আনুষ্ঠানিক সমর্থক নয়, তবে বিভিন্ন রাজনৈতিক মিছিলে তাদের উপস্থিতি থাকতে পারে। আমি শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় বিস্তারিত এখনো জানতে পারিনি।”
মতিউর রহমান (ওসি, সূত্রাপুর থানা) তিনি জানান, ইস্ট বেঙ্গল মার্কেটে বসবাসকারী শ্রমিক ও বিক্রয়কর্মীদের মধ্যে আগের কোনো বিরোধ বা পূর্বশত্রুতার জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হয়েছে। মিতুলকে কাঁচি দিয়ে বুকে আঘাত করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে ১০ জনকে আটক করা হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

