‘বাকশাল’ নাম দিয়ে রাবিতে গরুভোজ: সমালোচনার মুখে সম্পৃক্ততা অস্বীকার রাকসু জিএসের

0
‘বাকশাল’ নাম দিয়ে রাবিতে গরুভোজ: সমালোচনার মুখে সম্পৃক্ততা অস্বীকার রাকসু জিএসের

রাবি প্রতিনিধি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে ‘বাকশাল’ নাম দিয়ে গরু জবাই ও ‘জুলাইয়ের জিয়াফত’ শিরোনামে আয়োজিত খাবার বিতরণ কর্মসূচি ঘিরে তীব্র সমালোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। রাকসুর (রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ) নাম ব্যবহার করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফি আদায় ও সস্তা রাজনৈতিক কর্মসূচির অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী ও রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

১৫ আগস্টের আয়োজনের কথা জানিয়ে শুক্রবার রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও বার্তা দেন। সেখানে তিনি জানান, আয়োজনের জন্য আনা গরুটির নাম রাখা হয়েছে ‘বাকশাল’। গরুটি জবাই করে নিবন্ধিত শিক্ষার্থীদের ‘জুলাইয়ের জিয়াফত’ হিসেবে খাওয়ানো হবে।

পরে মধ্যরাতে দেওয়া আরেকটি পোস্টে আম্মার বাকশাল প্রসঙ্গে কুরুচিপূর্ণ ও অশালীন ভাষা ব্যবহার করেন, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম ক্ষোভের জন্ম দেয়।

আয়োজক সূত্রে জানা যায়, গুগলের মাধ্যমে ১৫ টাকা ফি নির্ধারণ করে এই ভোজের নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। নিবন্ধিত প্রায় ৭৫০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় ৬৫০ জনের জন্য গরুর মাংস এবং বাকি ১০০ জনের জন্য বিকল্প খাবারের আয়োজন ছিল। আজ শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে এই ভোজ সম্পন্ন হয়।

শুরুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাকসুর ব্যানারে এ প্রচার চালানো হলে শিক্ষার্থীরা তীব্র ক্ষোভ জানান। রাবি শিক্ষার্থী কৌশিক দাশ কংকন এক পোস্টে লেখেন, “রাকসুর নাম ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের থেকে টাকা নিয়ে এ ধরনের কর্মসূচি পালনের এখতিয়ার কারো নেই।” শিক্ষার্থী নিশা আক্তার হলের খাবারের মান ও আবাসন সংকট বাদ দিয়ে রাকসু নেতৃবৃন্দের এসব কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল এ আয়োজনকে ‘সস্তা রাজনীতি’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “শিক্ষার্থীদের সর্বজনীন প্ল্যাটফর্ম রাকসুর নাম ও ব্যানার ব্যবহার করে এ ধরনের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কর্মসূচি চালনা অত্যন্ত দুঃখজনক।”

বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ার পর আয়োজনে রাকসুর প্রাতিষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছেন জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার। তিনি দাবি করেন, “শুরুতে রাকসুর পক্ষ থেকে প্রচার চালানো হলেও সব সদস্য একমত না হওয়ায় পরবর্তীতে এটি ব্যক্তিগত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের উদ্যোগে করা হয়েছে। গরুটি এক ভাই উপহার দিয়েছেন। এতে রাকসুর কোনো তহবিল বা অফিশিয়াল সম্পৃক্ততা নেই।”

গরুর নাম ‘বাকশাল’ রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, “বাকশাল পতনের ঐতিহাসিক দিন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি হিসেবেই সাংকেতিকভাবে এ নাম দেওয়া হয়েছে।”

বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একটি রাজনৈতিক বিতর্কিত শিরোনাম ও ভাষা ব্যবহার করে এমন আয়োজন সম্পন্ন হলেও এ বিষয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।