রুশ তেল আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সবুজ সংকেত’: স্বস্তির নিশ্বাস বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে

0
রুশ তেল আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সবুজ সংকেত’: স্বস্তির নিশ্বাস বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে

বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ বিশ্বজুড়ে চলমান জ্বালানি সংকটের অস্থিরতার মাঝে বাংলাদেশের জন্য বড় ধরনের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সাফল্য এসেছে। রাশিয়ার পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানিতে ঢাকাকে নতুন করে ৬০ দিনের বিশেষ ছাড় দিয়েছে ওয়াশিংটন। মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে যখন তেলের বাজার টালমাটাল, তখন যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানির চাপ সাময়িকভাবে লাঘব করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর গত ১১ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে।

এর আগে ১২ মার্চ মাত্র ৩০ দিনের ছাড় দেওয়া হয়েছিল, যা কেবল পথে থাকা (ট্রানজিট) কার্গোর জন্য প্রযোজ্য ছিল। তবে নতুন এই ৬০ দিনের লাইসেন্সের ফলে বাংলাদেশ এখন সরাসরি নতুন করে আমদানির চুক্তি করার সুযোগ পাবে।

বাংলাদেশ সরকার মার্কিন প্রশাসনের কাছে যুক্তি দিয়েছিল যে, মধ্যপ্রাচ্যের প্রাতাঠানিক উৎসগুলো থেকে বর্তমানে প্রয়োজনীয় জ্বালানি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাশিয়ার সহজলভ্য জ্বালানিই এখন বাংলাদেশের জন্য অন্যতম নির্ভরযোগ্য বিকল্প।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই বিশেষ সময়ের মধ্যে রুশ উৎস থেকে অন্তত ১০ লাখ টন ডিজেল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

জ্বালানি বিভাগ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, “একটি মার্কিন কোম্পানির মাধ্যমেই রুশ জ্বালানি সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলছে যাতে আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন ও স্বচ্ছতা বজায় থাকে। প্রথম ধাপে ১ লাখ টন ডিজেল আমদানির প্রস্তুতি নিচ্ছে বিপিসি।”

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ছাড় কেবল তেল আমদানির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের জ্বালানি বিষয়ক সমঝোতা স্মারক (MoU) চূড়ান্ত করার পথে একটি বড় পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে দেশের জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় মার্কিন কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণ ও বিনিয়োগের পথ আরও প্রশস্ত হবে।

এদিকে, গতকাল ঢাকায় রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

৯ জুন এই ছাড়ের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে দ্রুততম সময়ে ক্রয়প্রক্রিয়া ও লজিস্টিক বিষয়গুলো সম্পন্ন করা বিপিসির জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই সীমিত সময়ের সুযোগটি কাজে লাগাতে পারলে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানির ঘাটতি মেটানো এবং দামের অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।