আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ বিশ্ব রাজনীতিতে এক নাটকীয় মোড় নিয়ে আসার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি শান্তি চুক্তি এখন ‘খুবই সন্নিকটে’। তেহরান তাদের কাছে থাকা পরিশোধিত ইউরেনিয়াম হস্তান্তরে রাজি হওয়ায় এই বড় অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে। এমনকি এই ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরের সাক্ষী হতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পাকিস্তান সফরে যাওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জানান, চুক্তির প্রধান অন্তরায়গুলো দূর হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তির খুব কাছে। আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল ইরান যেন কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র না পায়। তারা এখন প্রায় সবকিছুতেই সম্মত হয়েছে। সবচেয়ে বড় বিষয়, তারা তাদের ‘নিউক্লিয়ার ডাস্ট’ (পরিশোধিত ইউরেনিয়াম) আমাদের কাছে হস্তান্তর করতে রাজি হয়েছে।”
ওয়াশিংটনের দাবি, তেহরান যদি তাদের মজুত করা এই পরিশোধিত ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেয়, তবে তাদের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা কার্যত পঙ্গু হয়ে পড়বে।
এই ভূ-রাজনৈতিক জট খুলতে নেপথ্যে কারিগর হিসেবে কাজ করছে পাকিস্তান। ট্রাম্প ইসলামাবাদের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান জেনারেল অসীম মুনিরকে ‘সত্যিকার অর্থেই অসাধারণ’ বলে অভিহিত করেন।
চুক্তি সইয়ের স্থান হিসেবে ইসলামাবাদকে বেছে নেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নে ট্রাম্প ইতিবাচক সাড়া দিয়ে বলেন, “যদি ইসলামাবাদে চুক্তি সই হয়, তবে আমি অবশ্যই সেখানে যেতে পারি।”
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহান্তে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিবিড় বৈঠক করেন। সেই বৈঠকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না এলেও আলোচনার পথ প্রশস্ত হয়েছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, দ্বিতীয় দফার আলোচনার প্রস্তুতি চলছে এবং সেটিও সম্ভবত পাকিস্তানেই অনুষ্ঠিত হবে।
কেন এই চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ?
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে স্থায়ীভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা। চুক্তির বিনিময়ে ইরানের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল হতে পারে, যা বৈশ্বিক তেলের বাজারে প্রভাব ফেলবে। মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে এটি একটি মাইলফলক হতে পারে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই ঘোষণা যদি বাস্তবে রূপ নেয়, তবে তা হবে চলতি দশকের অন্যতম বড় কূটনৈতিক বিজয়। এখন বিশ্ববাসীর নজর ইসলামাবাদের পরবর্তী বৈঠকের দিকে।

