বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ রাজধানীর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে কিছুটা কমেছে সবজির ঝাঁজ। গত সপ্তাহের চড়া মূল্য থেকে সরে এসে বেশিরভাগ সবজি এখন সত্তর থেকে নব্বই টাকার ঘরে ওঠানামা করছে। তবে সবজির দামে কিছুটা পতন ঘটলেও সাধারণ ও মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের মাঝে স্বস্তি ফেরেনি। আয় ও ব্যয়ের অসঙ্গতির কারণে এখনো বাজার সাধারণ মানুষের সাধ্যের বাইরে রয়ে গেছে। অন্যদিকে, মাংসের বাজার চড়া থাকার পাশাপাশি নতুন করে ভোগান্তি বাড়িয়েছে মাছের বাড়তি দাম।
আজ শুক্রবার (২২ মে) রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ বেশ কয়েকটি খুচরা বাজার ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সাথে আলাপে এমন চিত্র উঠে এসেছে।
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, আড়তে সবজির আমদানি বা সরবরাহ কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়ায় পাইকারি পর্যায়ে দাম কমতে শুরু করেছে। তবে খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, পরিবহন ব্যয় এবং পাইকারি বাজারের উচ্চ মূল্যের কারণে খুচরা বাজারে এর বড় কোনো প্রভাব দেখা যাচ্ছে না।
কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতা আনিস জানান “গত সপ্তাহে বৈরি আবহাওয়া ও বৃষ্টির কারণে সবজির সরবরাহ ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছিল। চলতি সপ্তাহে সরবরাহ বাড়ায় দাম কিছুটা কমতির দিকে। তবে জ্বালানি ও পরিবহন খরচ অনেক বেশি হওয়ায় আমরা ক্রেতাদের কাঙ্ক্ষিত কম দামে পণ্য দিতে পারছি না।”
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত সপ্তাহে ১০০ টাকার নিচে কোনো সবজি মেলা ভার হলেও, আজ বেশিরভাগ সবজিই ৭০ থেকে ৯০ টাকার মধ্যে হাতবদল হচ্ছে।
গোল বেগুন ১০০ টাকা, টমেটো, পেঁপে ৮০ থেকে ১০০ টাকা, করলা, লম্বা বেগুন, পটল, বরবটি ৭০ থেকে ৮০ টাকা, ঝিঙে, চিচিঙ্গা, ধন্দুল ৮০ টাকা, শসা, ঢ্যাঁড়স ৬০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা, লাউ জালি (প্রতি পিস) ৬০ থেকে ৮০ টাকা, কাঁচা কলা (প্রতি হালি) ৬০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১২০ টাকা (এখনো চড়া)
বাজারে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী জুলহাস তাঁর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “গত সপ্তাহের চেয়ে দাম সামান্য কমলেও এক কেজি সবজি কিনতেই যদি ৮০-৯০ টাকা শেষ হয়ে যায়, তবে স্বল্প আয়ের মানুষের সংসার চলবে কীভাবে?”
টাউন হল বাজারে বাদল আক্ষেপ করে বলেন, “আগে ৫০০ টাকা নিয়ে বাজারে এলে ব্যাগ ভর্তি করে সওদা করা যেত। এখন শুধু সবজি কিনতেই টাকা ফুরিয়ে যায়। মাছ-মাংস কেনা তো এখন বিলাসিতা।” ক্রেতা রেহানা বেগমের মতে, বাজারে এসে এখন হিসাব মেলাতে হিমশিম খেতে হয়—কোনটা কিনবেন আর কোনটা বাদ দেবেন, সেই দ্বিধায় পড়তে হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
সপ্তাহের ব্যবধানে মাংসের বাজারে মূল্যের তেমন কোনো বড় রদবদল লক্ষ্য করা যায়নি। বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে পূর্বের মতোই ৮০০ টাকায়। এছাড়া দেশি মুরগির কেজি ঠেকেছে ৭৫০ টাকায়।
অন্যান্য মুরগির বাজার দর: ব্রয়লার মুরগি ১৭০ টাকা (প্রতি কেজি), সোনালি হাইব্রিড ২৯০ টাকা (প্রতি কেজি), সাদা লেয়ার ২৯০ টাকা (প্রতি কেজি), লাল লেয়ার ৩০০ টাকা (প্রতি কেজি), কক মুরগি ৩২০ টাকা (প্রতি কেজি)
মাংস কিনতে আসা হায়দার নামের এক ক্রেতা জানান, সবজি ও মাংসের দামের কারণে তারা এখন কেনাকাটার পরিমাণ অর্ধেক করে দিয়েছেন। আগে যেখানে দুই কেজি মাংস কিনতেন, এখন বাধ্য হয়ে এক কেজিতেই সীমাবদ্ধ থাকছেন।
সবজি ও মাংসের বাজারে যখন টানাপোড়েন চলছে, ঠিক তখনই সাধারণ ক্রেতাদের ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে মাছের বাজার। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় সব ধরনের মাছের দামই ঊর্ধ্বমুখী।
বাজারের বর্তমান মাছের দরদাম: চাষের পাঙাশ ১৮০ থেকে ২০০ টাকা (প্রতি কেজি), তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২৩০ টাকা (প্রতি কেজি), মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা (প্রতি কেজি), রুই, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা (প্রতি কেজি), চাষের শিং ৪০০ টাকা (প্রতি কেজি), দেশি টেংরা ৬০০ টাকা (প্রতি কেজি), বাইন মাছ ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা (প্রতি কেজি)
বাজারের এই সামগ্রিক পরিস্থিতিতে মধ্য ও নিম্নবিত্ত শ্রেণির সাধারণ মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। নিত্যপণ্যের এই লাগামহীন দাম নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ ভোক্তারা।

