বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী ইডেন মহিলা কলেজে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করেছে। দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ‘রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাস’-এর দাবিতে রাজপথে নেমে আসেন। রাত ১১টা থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ গভীর রাত পর্যন্ত স্থায়ী হয়, যা এক পর্যায়ে ক্যাম্পাসের প্রধান ফটক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে রূপ নেয়।
ঘটনার শুরু শনিবার সন্ধ্যার ঠিক পর। কলেজের মূল ফটকের দেয়ালে শিক্ষার্থীদের লেখা ‘রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাস’ সংবলিত স্লোগানটি একদল দুর্বৃত্ত চুন ও রং দিয়ে মুছে ফেলে। এই খবর ক্যাম্পাসের ভেতরে ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব টিকিয়ে রাখতেই তাদের দাবিকে এভাবে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে।
রাত ১১টার দিকে ইডেন কলেজের মূল হলগুলো এবং নবনির্মিত প্রস্তাবিত হজরত রাবেয়া বসরি ছাত্রীনিবাসের শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে বেরিয়ে আসেন। ‘রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাস চাই’, ‘দখলদারিত্বের দিন শেষ’—এমন সব স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
বিক্ষোভের এক পর্যায়ে উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা কলেজের প্রধান ফটকের তালা ভেঙে বাইরে বেরিয়ে আসেন। গেটে টাঙানো বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যানার ও ফেস্টুন নামিয়ে তাতে আগুন ধরিয়ে দেন। একাধিক পকেট গেট ভেঙে ফেলার চেষ্টা করেন।
আন্দোলনে অংশ নেওয়া একাধিক শিক্ষার্থী জানান, ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে সাধারণ ছাত্রীদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। তাদের মূল দাবিগুলো হলো অবিলম্বে ক্যাম্পাসকে সব ধরনের দলীয় রাজনীতিমুক্ত ঘোষণা করা। শিক্ষার্থীদের ওপর কোনো প্রকার রাজনৈতিক চাপ বা হয়রানি বন্ধ করা। আবাসিক হলগুলোতে সিট বাণিজ্য ও গেস্টরুম কালচার চিরতরে নির্মূল করা।
একজন শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা এখানে পড়তে এসেছি, রাজনীতি করতে নয়। আমাদের দেওয়ালে লেখা দাবি যারা মুছে দিয়েছে, তারা শিক্ষার্থীদের শত্রু। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরব না।”
গভীর রাতে কলেজ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাসে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, মৌখিক আশ্বাস নয়, বরং আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ক্যাম্পাসকে রাজনীতিমুক্ত ঘোষণা করতে হবে।

