আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতের মাঝেই এক বিস্ফোরক তথ্যে কেঁপে উঠেছে ওয়াশিংটন। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তেহরানের কাছে কোনো পরমাণু অস্ত্র না থাকার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া সত্ত্বেও ইসরায়েল ও বিশেষ বিদেশি শক্তির চাপে যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধে নামানো হয়েছে—এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল কাউন্টার টেররিজম সেন্টারের (এনসিসি) সাবেক প্রধান জো কেন্ট।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক দীর্ঘ পোস্টে জো কেন্ট জানান, সিআইএসহ শীর্ষ গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আগে থেকেই জানত যে তেহরান কোনো পারমাণবিক বোমা তৈরি করছে না। তিনি অভিযোগ করেন গোয়েন্দারা আগেই সতর্ক করেছিলেন যে, হামলা হলে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা আঘাত হানবে এবং হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ করবে। গোয়েন্দা তথ্যের সত্যতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মূলত ইসরায়েলের এজেন্ডা বাস্তবায়নে ট্রাম্প প্রশাসন এই যুদ্ধে জড়িয়েছে।
পারস্য উপসাগরে সাময়িকভাবে গোলাগুলি থামলেও উত্তেজনা মোটেও কমেনি। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সামরিক সূত্রগুলো হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে মার্কিন বাহিনী ইরানের তেলবাহী জাহাজে হস্তক্ষেপ করায় ইরান কঠোর সামরিক জবাব দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র যদি পুনরায় পারস্য উপসাগরে উস্কানি দেয় কিংবা ইরানি জাহাজের গতিপথ রোধ করে, তবে আগের চেয়েও ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে।
মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘে ও সমুদ্রে দুই ধরনের মেরুকরণ দেখা যাচ্ছে নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্র ও বাহরাইনের উত্থাপিত ইরান-বিরোধী প্রস্তাবের কঠোর বিরোধিতা করেছে মস্কো। রুশ উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার আলিমভ একে ‘অবাস্তব’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। অন্যদিকে, রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে ফোনালাপে সংঘাত এড়াতে আলোচনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
রাশিয়ার আলোচনার সুরের বিপরীতে যুক্তরাজ্য কঠোর অবস্থান নিয়েছে। হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা তাদের শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ ‘এইচএমএস ড্রাগন’ মোতায়েন করছে। এটি মূলত ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের যৌথ নেতৃত্বাধীন একটি বহুজাতিক মিশনের অংশ।
সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। জ্বালানি তেলের অনিয়ন্ত্রিত মূল্যবৃদ্ধিতে দিশেহারা বিপণন সংস্থাগুলো। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের গড় দাম এখন ব্যারেল প্রতি ১০৫ ডলার। ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দামও ১০০ ডলারের উপরে অবস্থান করছে। ডলারের বিপরীতে স্থানীয় মুদ্রার মান কমে যাওয়ায় আমদানি খরচ আকাশচুম্বী হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, বিপণন সংস্থাগুলো লোকসান সামাল দিতে খুচরা বাজারে তেলের দাম যেকোনো মুহূর্তে বাড়িয়ে দেবে।
একদিকে গোয়েন্দা তথ্য ফাঁসের নাটকীয়তা, অন্যদিকে পারস্য উপসাগরে যুদ্ধজাহাজের আনাগোনা—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্য এখন এক আগ্নেয়গিরি, যার উত্তাপ সরাসরি টের পাচ্ছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার।

