পীরগাছায় দাখিল পরীক্ষায় টাকার বাণিজ্য, ভুয়া পরীক্ষার্থী থেকে শুরুকরে নকলের হাট

0
পীরগাছায় দাখিল পরীক্ষায় টাকার বাণিজ্য, ভুয়া পরীক্ষার্থী থেকে নকলের হাট

পীরগাছা প্রতিনিধিঃ পরীক্ষা শুরুর আগেই শুরু হয়েছিল দর-কষাকষি| প্রবেশপত্র থেকে আসন বিন্যাস ক্যামেরার বাইরের আসন থেকে নকলের ব্যবস্থা সব কিছুরই আলাদা &#৩৯;রেট &#৩৯; ছিল|

রংপুরের পীরগাছায় চলমান দাখিল পরীক্ষাকে ঘিরে এমনই এক সংগঠিত অনিয়মের ছবি উঠে এসেছে| সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগটি হলো ভুয়া পরীক্ষার্থী নিয়ে| তা¤^ুলপুর দাখিল মাদ্রাসায় এখন অষ্টম শ্রেণির নিয়মিত শিক্ষার্থী জেনিফা আক্তার জেমি যার রোল নম্বর-(১)| অথচ সে এবারের দাখিল পরীক্ষায় বসেছে জবানবিশ মাদ্রাসার দাখিল পরীক্ষার্থী হিসেবে| যার রেজিষ্ট্রেশন নম্বর-২৩১৮৮৩০২০৭, রোল নম্বর-১৭৮৯২৮| শুধু জেমি নন, নগরজিৎপুর, জবানবিশ, রহমতচর ও হাসনা মাদ্রাসার পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্রে নাম, ঠিকানা ও ছবি মিলিয়ে দেখলেই বেরিয়ে আসবে আরও একাধিক ভুয়া পরীক্ষার্থীর আসল পরিচয় এমনটাই দাবি করছেন সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র| টাকার খেলা শুরু হয়েছে প্রবেশপত্র থেকেই|

সরকার নির্ধারিত মূল্য ৪শ ১০ টাকা হলেও প্রতিটি প্রবেশপত্রে গুনতে হয়েছে ৫শ টাকা করে অতিরিক্ত ৯০ টাকা| বিষয়টি নিয়ে ˆসয়দপুর ফাজিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুস সালাম বলেন, &#৩৯; ৪শ ১০ টাকার প্রবেশপত্র ৫শ টাকায় নিতে হয়েছে| ১ টাকাও কম নেয়নি| প্রবেশপত্রের এই টাকা হাজী ছফের উদ্দিন মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক হেমায়েত আদায় করেছেন বলে একাধিক প্রতিষ্ঠান প্রধান নিশ্চিত করেছেন|

কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী প্রতি ৯০ টাকা বেশী নিয়ে প্রবেশপত্র বাণিজ্যেই মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে| আসন বিন্যাসে হয়েছে আলাদা লেনদেন| প্রতিষ্ঠান প্রতি দেড় হাজার থেকে তিন হাজার টাকার বিনিময়ে পরীক্ষার্থীদের কৌশলে সিসি ক্যামেরার আওতার বাইরে বসানো হয়েছে| ক্যামেরার চোখ এড়িয়ে কক্ষে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকদের পরিদর্শকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে – যাতে নকল সরবরাহে কোনো বাধা না থাকে|

পরীক্ষার সঙ্গে কোন সম্পর্ক না থাকলেও অনেকে অফিস কক্ষে অবাধে বিচরণ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে| এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে পরীক্ষার কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, মাও.মনিরুল ইসলামসহ একাধিক ব্যক্তি বসে আছেন, যার পরীক্ষার সংগে কোন সম্পর্ক নেই| হাজী ছফের উদ্দিন মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী শাহাজালালসহ অনেককে কক্ষ পরিদর্শকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে| অপরদিকে এমপিও ভূক্ত শিক্ষকদের বাদ দিয়ে নগরজিৎপুর পুরের সহকারী শিক্ষক আব্দুর রহিমসহ অনেককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে| এই পুরো আয়োজনের পেছনে কেন্দ্র সচিবের ভূমিকা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে|

জানা গেছে, গত ১৮ এপ্রিল পরীক্ষার হলে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কেন্দ্র সচিব আব্দুস সাত্তারসহ তাঁর পুরো দলকে সাথে নিয়ে নগরজিৎপুর দাখিল মাদ্রাসার সুপার আনিছুর রহমানের বাড়িতে ভূড়িভোগ করেন| অপরদিকে চলতি দাখিল পরীক্ষায় বিশেষ সুবিধার আশ্বাস দিয়ে  সৈয়দপুর ফাজিল মাদ্রাসায় গত ২৮ এপ্রিল তাঁদের নিজ¯^ পিকনিকে হাজী ছফের উদ্দিন মাদ্রাসার পরীক্ষা কেন্দের সচিব আব্দুস সাত্তার, হেমায়েতসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত পুরোটিম গেষ্ট হিসেবে আতিথেয়তা গ্রহন করেন| শুধু একজনের বাড়ি আর এক প্রতিষ্ঠানে নয়, একাধিক ব্যক্তির বাড়ি আর প্রতিষ্ঠানে তাঁরা আতিথেয়তা গ্রহণ করেন বলে একাধিক সূত্র জানায়| সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই &#৩৯;দাওয়াত সংস্কৃতি&#৩৯;ই আসলে পরীক্ষার মাঠে অনিয়মের মূল চালিকাশক্তি| ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী জেনিফা আক্তার জেমিকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি কত সালে ৫ম শ্রেণি পাশ করেছেন বলতে পারেননি| কেন্দ্র সচিব আব্দুস সাত্তার দাওয়াত খাওয়া ও ৪শ ১০ টাকার স্থলে ৫শ টাকা আদায় করার বিষয়টি অকপটে অস্বীকার করেছেন|

পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জায়িদ ইমরুল মুজাক্কির বলেন, খোজ-খবর নিচ্ছি, যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে| তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল|