লবণ ছাড়াই পান্তা খেয়ে কেটেছে শৈশব: ডা. এজাজের ফেলে আসা সংগ্রামের গল্প

0
লবণ ছাড়াই পান্তা খেয়ে কেটেছে শৈশব: ডা. এজাজের ফেলে আসা সংগ্রামের গল্প

বিনোদন ডেস্কঃ পর্দায় তার উপস্থিতি মানেই দর্শক হৃদয়ে হাসির ঝিলিক। তবে পর্দার হাসিখুশি মানুষ ডা. এজাজুল ইসলামের বাস্তব জীবনের পরতে পরতে জমা আছে নিদারুণ অভাব আর ত্যাগের গল্প। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এই গুণী অভিনেতা ও চিকিৎসক মুখ খুলেছেন তার শৈশবের সেই দিনগুলো নিয়ে, যখন এক গামলা পান্তা ভাতই ছিল তার নিত্যসঙ্গী।

ডা. এজাজ জানান, তার শৈশবটা মোটেও রূপকথার মতো সচ্ছল ছিল না। গ্রামের অভাবী সংসারে এক টাকা ছিল অনেক বড় সম্বল। তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, “মনে আছে দাদি বা আম্মা আমাকে এক টাকা দিতেন। সেই এক টাকার সবজি কিনে আমাদের তিন দিন চলতে হতো। তিন দিন পর আবার মিলত এক টাকা।” তবে নদীর পাড়ে বাড়ি হওয়ায় মাছের অভাব কখনোই হয়নি বলে জানান তিনি।

সকাল বেলার নাস্তায় মাসের প্রায় ১০-১২ দিনই জুটত পান্তা ভাত। কিন্তু বিলাসিতা তো দূরের কথা, পান্তায় মাখার মতো নুনটুকুও জোটা ছিল দুষ্কর। ডা. এজাজের ভাষায়—

“কাঁচামরিচ আর পেঁয়াজ দিয়ে পান্তা মাখা আমার খুব প্রিয়। কিন্তু সেই দিনগুলোতে নুন ছিল না, আমরা লবণ ছাড়াই পান্তা খেতাম। অভাব তখন এতটাই জেঁকে বসেছিল।”

শৈশবের সেই বাধ্য হয়ে খাওয়া পান্তাই এখন ডা. এজাজের শৌখিন খাবারে পরিণত হয়েছে। তবে ঘরে এখন পান্তার আয়োজন করার কেউ নেই বলে শুটিং স্পটেই সেরে নেন রসনাবিলাস। তিনি বলেন, “সম্প্রতি আফজাল হোসেন ভাইয়ের একটি কাজে গিয়ে কয়েকদিন মন ভরে পান্তা খেয়েছি। সেখানে পান্তার ব্যবস্থা ছিল।” তবে শরীর সায় দেয় না সবসময়; ডায়াবেটিসের কারণে এখন আর সেই আগের মতো ‘এক গামলা’ পান্তা খাওয়া হয় না তার।

সংসারের ঘানি টানতে টানতে অভাবের মুখে দাঁড়িয়েও ডা. এজাজ আজ দেশের অন্যতম সফল চিকিৎসক ও অভিনেতা। শৈশবের সেই লবণহীন পান্তাই বোধহয় তাকে আজকের এই ‘নুন খাওয়া’ মানুষের ভিড়ে মাটির কাছাকাছি থাকতে শিখিয়েছে। অভাবের সেই দিনগুলো পেছনে ফেলে আসলেও ডা. এজাজ ভুলতে পারেননি তার শেকড়কে।