১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ ও জিডিপির ৫% বরাদ্দের ঘোষণা: ড. জুবাইদা রহমান

0
১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ ও জিডিপির ৫% বরাদ্দের ঘোষণা: ড. জুবাইদা রহমান

বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ দেশের স্বাস্থ্য খাতে বড় ধরনের পরিবর্তনের রূপরেখা তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি জানিয়েছেন, দেশের প্রতিটি প্রান্তিক মানুষের কাছে মৌলিক চিকিৎসা সুবিধা পৌঁছে দিতে ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে, যেখানে নারী স্বাস্থ্যকর্মীদের অগ্রাধিকার প্রদান করা হবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতে সরকারি বিনিয়োগ পর্যায়ক্রমে জাতীয় বাজেটের জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথাও ব্যক্ত করেন তিনি।

আজ রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর বিজয় সরণির নভোথিয়েটারে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৪’-এর দ্বিতীয় দিনে ‘সাশ্রয়ী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ সম্প্রসারণ’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. জুবাইদা রহমান জোর দিয়ে বলেন, স্বাস্থ্যসেবা কেবল অত্যাধুনিক হাসপাতাল বা দামি প্রযুক্তি দিয়ে মাপা উচিত নয়; মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত প্রান্তিক মানুষের রোগ জটিল হওয়ার আগেই তা প্রতিরোধ করা।

তিনি বলেন, কমিউনিটি কেয়ারের মাধ্যমে দেশের ৯০,০০০-এর বেশি গ্রামে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া হবে, যাতে সাধারণ রোগের জন্য শহরের দূর-দূরান্তে ছুটতে না হয়।

নারী কর্মসংস্থান ও সেবায় ১ লাখ নিয়োগপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে প্রসূতি যত্ন, মা ও শিশু স্বাস্থ্য এবং পুষ্টিবিষয়ক সামাজিক মনিটরিং নিশ্চিতকরণ হবে।

হৃদরোগ, ক্যানসার ও ডায়াবেটিস দ্রুত শনাক্তকরণে ব্যাপকভিত্তিক সামাজিক স্ক্রিনিং ও ফলো-আপ চিকিৎসা প্রবর্তন। প্রবীণ জনগোষ্ঠীর জন্য ডিমেনশিয়া, পারকিনসন্সসহ বার্ধক্যজনিত জটিল রোগের চিকিৎসার পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের বাস্তবায়নে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী এই ইনোভেশন মেলা শেষ হবে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর)। নভোথিয়েটার প্রাঙ্গণে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য প্রদর্শনী উন্মুক্ত থাকছে।

ডা. জুবাইদা রহমান স্পষ্ট করেন যে, স্বাস্থ্যসেবা কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণি বা আয়ের মানুষের সুবিধা নয়, বরং এটি প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। রোগ জটিল হওয়ার আগেই গ্রামে গ্রামে প্রাথমিক পরীক্ষা এবং উন্নত হাসপাতালে মসৃণ রেফারেল ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে জাতীয় স্বাস্থ্য খাতের এ রূপান্তর ঘটানো হবে।