আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এক নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ইরান এবং লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর এক সমন্বিত ও ভয়াবহ হামলার শিকার হয়েছে ইসরায়েল। কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা এই হামলায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং রকেটের বৃষ্টিতে কেঁপে উঠেছে ইসরায়েলের উত্তর থেকে মধ্যঞ্চল।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRG-C) এই হামলাকে হিজবুল্লাহর সঙ্গে একটি ‘সমন্বিত ও যৌথ অভিযান’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
লেবানন সীমান্ত থেকে উত্তর ইসরায়েলের দিকে প্রায় ২০০টি রকেট ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে হিজবুল্লাহ। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল তেল আবিবের উপকণ্ঠে অবস্থিত গ্লিলট সামরিক ঘাঁটি, যেখানে ইসরায়েলি সামরিক গোয়েন্দা ইউনিট ৮২০০-এর সদর দপ্তর অবস্থিত। একই সময়ে ইরান সরাসরি ইসরায়েলের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় থাকলেও বেশ কিছু রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে।
ইসরায়েলি জরুরি সেবা সংস্থা ‘মাগেন ডেভিড আদম’ জানিয়েছে, উড়ে আসা ধ্বংসাবশেষে অন্তত ২ জন গুরুতর আহত হয়েছেন (একজন ৩৫ বছর বয়সী নারী এবং একজন পঞ্চাশোর্ধ্ব পুরুষ)। এছাড়া বিয়িনা শহরে একটি বাড়িতে রকেট আঘাত হানলে ৪ জন তীব্র আতঙ্কজনিত কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েন। হাইফা, গ্যালিলি অঞ্চলসহ উত্তর ইসরায়েলের শহরগুলোতে ক্রমাগত সাইরেন বেজে ওঠায় প্রায় লক্ষাধিক ইসরায়েলি দীর্ঘ সময় ধরে আন্ডারগ্রাউন্ড শেল্টারে অবস্থান করতে বাধ্য হন। লেবানন সীমান্ত থেকে দেশের অভ্যন্তরে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
ইসরায়েল দাবি করেছে, তাদের আয়রন ডোম এবং অ্যারো ডিফেন্স সিস্টেম অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। তবে উত্তর ইসরায়েলের বেশ কিছু স্থাপনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই হামলার প্রেক্ষাপটে তেহরান এবং দক্ষিণ লেবাননে পাল্টা বড় ধরনের হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেল আবিব।

