আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি তার প্রথম আনুষ্ঠানিক ভাষণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি সম্পূর্ণ নির্মূল করার ঘোষণা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক বার্তায় তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি তারা এই অঞ্চল থেকে তাদের সমস্ত সামরিক ঘাঁটি অবিলম্বে বন্ধ না করে, তবে ইরানি বাহিনীর আক্রমণ অব্যাহত থাকবে।
ভাষণে মোজতবা খামেনি স্পষ্ট করে বলেন, ইরানের লড়াই কোনো আঞ্চলিক শক্তির বিরুদ্ধে নয়, বরং সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, “আমরা আমাদের প্রতিবেশীদের সঙ্গে বন্ধুত্বে বিশ্বাসী। আমাদের লক্ষ্য কেবল মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো। যতক্ষণ না তারা আমাদের মাটি এবং এই অঞ্চল ত্যাগ করছে, ততক্ষণ এই হামলা থামবে না।”
তিনি আরও যোগ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র শান্তি ও নিরাপত্তার নামে যে রক্ষার প্রতিশ্রুতি দেয়, তা আসলে একটি ‘মিথ্যা’ ছাড়া আর কিছু নয়।
ইরান কেবল সামরিক আক্রমণেই সীমাবদ্ধ থাকবে না বলে জানিয়েছেন সর্বোচ্চ নেতা। তিনি যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য সরাসরি ক্ষতিপূরণ দাবি করে বলেন, শত্রু পক্ষকে ইরানের ক্ষয়ক্ষতির সমপরিমাণ অর্থ প্রদান করতে হবে। যদি তারা ক্ষতিপূরণ দিতে অস্বীকার করে, তবে ইরান তাদের সম্পদ বা সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করবে। বাজেয়াপ্ত করা সম্ভব না হলে, সমপরিমাণ মূল্যের শত্রু সম্পত্তি ধ্বংস করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন মোজতবা খামেনি। তিনি একে ‘শত্রুর ওপর চাপ সৃষ্টির প্রধান অস্ত্র’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ইতোমধ্যেই ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বর্তমান সংকটকালীন মুহূর্তে ইরানি জনগণকে বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। বিশেষ করে গত কয়েক সপ্তাহের কঠিন পরিস্থিতিতে ইরানি সেনাবাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, “আমাদের দেশ যখন প্রবল চাপ ও বহিঃশক্তির আক্রমণের মুখে, তখন আমাদের সাহসী যোদ্ধারা দুর্দান্ত দায়িত্ব পালন করেছেন। তাদের অকুতোভয় প্রতিরোধের কারণেই দেশ আজ মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।”
ভাষণের শেষে তিনি তার পিতা (প্রয়াত আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি) এবং অন্যান্য শহীদদের কথা স্মরণ করেন। তিনি অঙ্গীকার করেন যে, “শহীদদের প্রতি ফোঁটা রক্তের প্রতিশোধ নেওয়া হবে এবং ইরান কোনোভাবেই তার সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আপস করবে না।”
সূত্র: বিবিসি, আল-জাজিরা এবং ইরান স্টেট মিডিয়া।

