আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইরান ও পশ্চিমা শক্তিগুলোর মধ্যে চলমান সংঘাত কি তবে স্তিমিত হয়ে আসছে? মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য অন্তত সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স বিজনেসকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ এখন ‘শেষের পথে’।
উপস্থাপক মারিয়া বার্তিরোমোকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “আমার মনে হয় ইরান যুদ্ধ শেষের পথে। আমি দেখতে পাচ্ছি, এই যুদ্ধ সমাপ্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।” তবে যুদ্ধ শেষের ইঙ্গিত দিলেও ইরানে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বা অভিযানের প্রয়োজনীয়তা এখনই ফুরিয়ে যায়নি বলে সতর্ক করেছেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প উল্লেখ করেন যে, মার্কিন বাহিনী এখনও তাদের কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, “যদি এখনই আমি ইরান থেকে সবকিছু গুটিয়ে নেই— তাহলে দেশ পুনর্গঠন করতে তাদের ২০ বছর লাগবে। আমরা এখনও অভিযান শেষ করিনি। আমরা দেখব শেষ পর্যন্ত কী হয়।”
ট্রাম্পের মতে, সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপের মুখে ইরান এখন সমঝোতার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। তিনি যোগ করেন, “আমার মনে হয় তারা খুব তীব্রভাবে একটি চুক্তিতে আসতে চাইছে।”
সাক্ষাৎকারের আগে বার্তিরোমো সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও বার্তায় জানান যে, আলাপকালে ট্রাম্প বারবার ইরান যুদ্ধ নিয়ে ‘অতীত কাল’ (Past Tense) ব্যবহার করছিলেন। এতে কৌতূহলী হয়ে তিনি সরাসরি প্রশ্ন করেন, “যুদ্ধ কি শেষ?” জবাবে ট্রাম্প সরাসরি বলেন, “এটা শেষ।”
ইরানের বিতর্কিত পরমাণু প্রকল্প ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশটিতে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। দীর্ঘ ৪০ দিন রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের পর গত ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ দিনের একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় পক্ষগুলো।
এই যুদ্ধবিরতিকে একটি স্থায়ী শান্তিতে রূপ দিতে গত ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসেছিলেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সরকারি প্রতিনিধিরা। যদিও ২২ ঘণ্টার দীর্ঘ ম্যারাথন আলোচনার পরও কোনো আনুষ্ঠানিক সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি, তবে ট্রাম্পের বক্তব্যে আশার আলো দেখা যাচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, শিগগিরই ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফা বৈঠকে বসবেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। ধারণা করা হচ্ছে, পরবর্তী এই বৈঠকেই যুদ্ধের ভাগ্য এবং নতুন কোনো দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির রূপরেখা নির্ধারিত হতে পারে।

