আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মধ্যপ্রাচ্যের চরম উত্তেজনার মধ্যে এক নাটকীয় মোড় নিয়েছে ওয়াশিংটন-তেহরান সম্পর্ক। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার (২০ এপ্রিল) ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ঘোষণা করেছেন যে, আজই পাকিস্তানে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাসহ একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এই চাঞ্চল্যকর খবরটি নিশ্চিত করেছে।
নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, ইরানের সঙ্গে চূড়ান্ত আলোচনায় অংশ নিতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী প্রতিনিধি দল ইতিমধ্যে ইসলামাবাদের পথে রয়েছেন। এই দলে ভ্যান্সের পাশাপাশি রয়েছেন স্টিভ উইটকফ, বিশেষ দূত। জ্যারেড কুশনার, ট্রাম্পের উপদেষ্টা ও জামাতা।
ট্রাম্প আশা প্রকাশ করে বলেন, “আমরা ইরানের সাথে আলোচনার শেষ পর্যায়ে রয়েছি। আমার ধারণা, এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কেউ অন্য কোনো খেলা খেলবে না।” তিনি আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলে তিনি নিজে ইরানের শীর্ষ নেতাদের সাথে সরাসরি সাক্ষাত করতেও প্রস্তুত।
এবারের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটি কঠিন শর্ত। ট্রাম্প প্রশাসন স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ইরানকে অবশ্যই তাদের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উচ্চাকাঙ্ক্ষা সম্পূর্ণভাবে ত্যাগ করতে হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভাষায়, “এটি একটি অযৌক্তিক দাবি মনে হলেও এ বিষয়ে কোনো আপস করা হবে না।” এছাড়া হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এবং নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার বিষয়গুলোও টেবিলের ওপর রয়েছে।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শুরু হওয়া রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পাঁচ সপ্তাহ পর দুই সপ্তাহের একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়। আগামী বুধবার এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। এর আগে প্রথম দফার আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছিল।
তবে দ্বিতীয় দফার এই আলোচনা ঘিরে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি। সোমবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশহাক দার টেলিফোনে কথা বলেছেন। ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ‘ইরনা’ দ্বিতীয় দফার আলোচনার খবরকে সত্য নয় বলে দাবি করলেও, সিএনএন এবং আনাদোলু এজেন্সি সূত্র জানিয়েছে, পাকিস্তান এই আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে এবং তেহরান শেষ মুহূর্তে আলোচনায় অংশ নিতে পারে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হোয়াইট হাউস থেকে প্রতিনিধি দলের যাত্রার সময় নিয়ে কিছুটা ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেলেও (ট্রাম্প বলছেন তারা পথে আছেন, আর হোয়াইট হাউস বলছে মঙ্গলবার যাত্রা করবেন), আলোচনার গুরুত্ব অপরিসীম। মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং বড় ধরনের যুদ্ধ এড়াতে এই ‘ইসলামাবাদ সংলাপ’ বিশ্ব রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।
যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। যদি আজ কোনো চুক্তি স্বাক্ষরিত না হয়, তবে পুনরায় সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছে আন্তর্জাতিক মহল।

