কূটনৈতিক প্রতিবেদকঃ দীর্ঘ ১৮ মাসের স্নায়ুযুদ্ধ ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন কাটিয়ে অবশেষে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে ঢাকা ও নয়াদিল্লির দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক। এর অংশ হিসেবে দুই প্রতিবেশী দেশই পুরোদমে ভিসা কার্যক্রম চালুর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরই মধ্যে বাংলাদেশ সব ক্যাটাগরিতে ভিসা ইস্যু শুরু করেছে এবং ভারতও আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তাদের সব কটি কেন্দ্রে স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মাসে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান দিল্লি সফরকালে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের যে রোডম্যাপ তুলে ধরেছিলেন, তার শীর্ষে ছিল ভিসা সেবা স্বাভাবিকীকরণ। বর্তমানে নয়াদিল্লি, কলকাতা, আগরতলা ও চেন্নাইসহ ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশের সব কটি মিশন পুরোদমে সক্রিয় রয়েছে। ঢাকা এখন নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে একই ধরনের তড়িৎ পদক্ষেপের অপেক্ষায়।
ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ জানান, গত ডিসেম্বরে উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে কিছু কেন্দ্রে সেবা স্থগিত করতে হলেও ফেব্রুয়ারিতেই সেগুলো পুনরায় চালু করা হয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে যে, বাংলাদেশে নিযুক্ত নতুন ভারতীয় হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী দায়িত্ব গ্রহণ করার পরপরই ভারতের ভিসা আবেদন কেন্দ্রগুলোর (আইভ্যাক) কপাট সবার জন্য উন্মুক্ত হবে। ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে যে দূরত্বের সৃষ্টি হয়েছিল, তা ঘোচাতেই এই উদ্যোগ।
গত ডিসেম্বরে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর ঢাকায় অস্থিরতা এবং চট্টগ্রামে ভারতীয় মিশনে হামলার জেরে দুই দেশের ভিসা কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছিল। ২১ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম আইভ্যাকের কার্যক্রম বন্ধ হলে এর প্রতিক্রিয়ায় দিল্লি ও আগরতলা মিশন থেকে কনস্যুলার সেবা স্থগিত করে বাংলাদেশ।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়ের পর দুই দেশের সম্পর্কের রসায়ন পাল্টাতে শুরু করে। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান এবং টেলিফোনে কথা বলেন। বাংলাদেশের নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে মোদীর প্রতিনিধি হিসেবে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার অংশগ্রহণ সম্পর্কের উন্নয়নকে আরও ত্বরান্বিত করে।
ভিসা কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হওয়ার খবরে বিশেষ করে চিকিৎসা ও উচ্চশিক্ষার জন্য ভারতগামী বাংলাদেশি নাগরিক এবং বাংলাদেশে ব্যবসায়িক কাজে আসতে ইচ্ছুক ভারতীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ভিসা জটিলতা দূর হলে দুই দেশের ঝিমিয়ে পড়া পর্যটন ও বাণিজ্য খাত আবারও প্রাণ ফিরে পাবে।

