আন্তরজাতিক ডেস্কঃ পশ্চিমবঙ্গের মসনদ দখলের চূড়ান্ত লড়াইয়ে সবার নজর এখন কলকাতার ভবানীপুর কেন্দ্রে। যেখানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর মধ্যে চলছে এক রোমাঞ্চকর ‘পেনডুলাম’ যুদ্ধ। গণনার শুরু থেকে এখন পর্যন্ত একবার মমতা তো একবার শুভেন্দু—লিড বদল হচ্ছে প্রতি মুহূর্তে। তবে সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, শুভেন্দু অধিকারীকে পেছনে ফেলে ৮ হাজার ভোটে এগিয়ে গিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
সোমবার সকাল ৮টা থেকে কড়া নিরাপত্তায় শুরু হয় ভোট গণনা। প্রথম কয়েক রাউন্ডের চিত্র ছিল অনেকটা এমন: পোস্টাল ব্যালট ও প্রাথমিক গণনায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯৯৬ ভোটে এগিয়ে ছিলেন। চমক দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী ১৫৫৮ ভোটে লিড নেন, যা গেরুয়া শিবিরে স্বস্তি এনে দিয়েছিল। তৃতীয় রাউন্ডের শেষে আবারও ঘুরে দাঁড়ান মমতা। বর্তমানে তিনি ৮ হাজার ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে থেকে নিজের দুর্গ রক্ষার লড়াই চালাচ্ছেন।
এই কেন্দ্রটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য কেবল একটি আসন নয়, বরং সম্মানের লড়াই। ২০১১ সালে এই কেন্দ্র থেকেই জিতে প্রথমবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন মমতা। ২০১৬ এবং ২০২১ সালেও তিনি এখান থেকেই জয়ী হন। ২০২১-এর নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে নন্দীগ্রামে হারতে হয়েছিল মমতাকে। এবার শুভেন্দু সেই একই কৌশল ব্যবহার করতে চাইছেন মমতার নিজের এলাকায়।
শুভেন্দু অধিকারী সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ভবানীপুরে লড়াই কঠিন হলেও তিনি নন্দীগ্রামে প্রায় ৭ হাজার ভোটে এগিয়ে আছেন এবং তার দাবি অনুযায়ী বিজেপি বর্তমানে প্রায় ১৬৫টি আসনে লিড দিচ্ছে। শুভেন্দুর মনোনয়ন জমা দেওয়ার দিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, “মমতা নন্দীগ্রামের মতো ভবানীপুরেও হারবেন।”
অন্যদিকে, তৃণমূল শিবিরের দাবি—ফলাফল এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে। ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মাটি কামড়ে পড়ে থেকে প্রচার চালিয়েছেন, যার ফল ইভিএম-এ প্রতিফলিত হতে শুরু করেছে। তাদের মতে, গণনা যত এগোবে, মমতার লিড আরও বাড়বে।|
প্রাথমিক গণনায় পোস্টাল ব্যালটের প্রভাব থাকলেও এখন ইভিএম-এর রায় আসা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভবানীপুরের এই লড়াই কেবল দুই ব্যক্তির নয়, বরং পশ্চিমবঙ্গের আগামী পাঁচ বছরের রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণকারী। পূর্ণাঙ্গ ফলাফল পেতে আরও কয়েক রাউন্ড গণনার অপেক্ষা করতে হবে।
তথ্যসূত্র:ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI)

