বেইজিংয়ে ট্রাম্প-শি ‘মেগা সামিট’: নতুন বাণিজ্যিক দিগন্ত ও বৈশ্বিক সংকট সমাধানে ঐকমত্য

0
বেইজিংয়ে ট্রাম্প-শি ‘মেগা সামিট’: নতুন বাণিজ্যিক দিগন্ত ও বৈশ্বিক সংকট সমাধানে ঐকমত্য

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ দীর্ঘ ৯ বছর পর বেইজিংয়ের মাটিতে পা রেখে বিশ্ব রাজনীতির মানচিত্রে নতুন সমীকরণ তৈরি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দুই দিনব্যাপী উচ্চপর্যায়ের কৌশলগত বৈঠক শেষে আজ শুক্রবার দেশের পথে রওনা হয়েছেন তিনি। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ, তাইওয়ান ইস্যু এবং বাণিজ্য—এই তিন ‘স্পর্শকাতর’ বিষয়ে উভয় নেতার আলোচনায় উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।

চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেইজিংয়ের ঝোংনানহাই উদ্যানে অনুষ্ঠিত এই বৈঠককে দুই দেশই ‘ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই সফরকে ‘অত্যন্ত সফল’ হিসেবে বর্ণনা করে জানিয়েছেন, চীনের সঙ্গে বেশ কিছু ‘ফ্যান্টাস্টিক ট্রেড ডিল’ বা চমৎকার বাণিজ্যিক চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।

বিমান চুক্তি: ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানিয়েছেন, চীন প্রায় ২০০টি মার্কিন বোয়িং জেট কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

জ্বালানি ও কৃষি: বেইজিং মার্কিন তেল এবং সয়াবিন কেনার বিষয়ে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে, যা দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে সহায়ক হবে।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে চীনের অবস্থান ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি আর বেশি ধৈর্য ধরবেন না। প্রেসিডেন্ট শি ট্রাম্পকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, চীন ইরানকে কোনো সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করবে না। এছাড়াও শি জিনপিং স্ট্রেট অফ হরমুজ (Strait of Hormuz) বা হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

বাণিজ্য ও ইরান ইস্যুতে নমনীয় হলেও তাইওয়ান প্রশ্নে বেইজিং তাদের কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে। শি জিনপিং ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেছেন “তাইওয়ান ইস্যু চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল বিষয়। এটি সঠিকভাবে না সামলালে দুই দেশের মধ্যে বড় ধরনের সংঘাত বা সংঘর্ষ বেঁধে যেতে পারে।”

বৈঠকের এক পর্যায়ে ট্রাম্প শি জিনপিংকে ‘পুরনো বন্ধু’ হিসেবে সম্বোধন করেন এবং তার নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। শি জিনপিংও এই সফরকে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘গঠনমূলক কৌশলগত স্থিতিশীলতার’ (Constructive Strategic Stability) নতুন ভিত্তি হিসেবে অভিহিত করেছেন।

আগামীতে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে ওয়াশিংটনে আতিথ্য দেওয়ার জন্য ট্রাম্প অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন বলেও জানিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই সফরের মাধ্যমে ২০২৬ সালে এসে বিশ্বের দুই প্রধান শক্তির সম্পর্কে কিছুটা বরফ গলতে শুরু করেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত।