পাঁচ দিনের রিমান্ড, মৃত্যুকে আমি আর ভয় করি নাঃ আনিস আলমগীর

0
পাঁচ দিনের রিমান্ড, মৃত্যুকে আমি আর ভয় করি নাঃ আনিস আলমগীর

আদালত প্রতিবেদকঃ রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় সাংবাদিক আনিস আলমগীরের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। সাত দিনের রিমান্ড আবেদনের শুনানি শেষে সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এই রিমান্ডের আদেশ দিয়েছেন ।

আজ সোমবার বিকেল ৫টা ৩৩ মিনিটে আদালতে তোলা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, উত্তরা পশ্চিম থানার পরিদর্শক মুনিরুজ্জামান এ রিমান্ড আবেদন করেন।

সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৫টা ২৮ মিনিটের তাকে আদালতের হাজতখানা থেকে এজলাসে তোলা হয়। নেওয়ার সময় প্রচণ্ডরকম ভিড় দেখা যায়। তোলার সময় আনিসের হাতে হাতকড়া, মাথায় হেলমেট ও বুকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরানো হয়। এরপর ৫টা ৩২ মিনিটে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতের কাঠগড়ায় তোলা হয়। শুনানি শেষে আদালত তার ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে কাঠগড়ায় হাজিরের পর তার পক্ষের আইনজীবীরা তাকে ঘিরে ধরেন। কযেকজনের সাথেও কথা বলেন আনিস। এরপর আনিস আলমগীর অঝোরে কাঁদতে থাকেন। বারবার হাত দিয়ে চোখের পানি মোছেন তিনি।

এরআগে সন্ধ্যা ৫টা ৮ মিনিটের দিকে সাদা মাইক্রো গাড়িতে করে ডিবি অফিস থেকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর তাকে হাজতখানায় রাখা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার ইন্সপেক্টর মুনিরুজ্জামান ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

আদালতে শুনানী চলাকালে আনিস আলমগীর বলেন, ‘মাননীয় আদালত, আমি সাংবাদিক। আমি ক্ষমতাকে প্রশ্ন করি। দুই যুগ ধরে আমি এটা করে এসেছি। আমার জব (পেশা) কারও কাছে নতজানু হওয়া না। আমাকে যারা নির্দিষ্ট দলের গোলাম বানাতে চায়, এটা তাদের সমস্যা। আমার ফেসবুকে সব বক্তব্য দিই। এখানে অপ্রকাশিত নেই কোনো কিছু। আমি ইউনূসের (প্রধান উপদেষ্টা) বাড়ি আক্রমণের কথা বলেছি, কিন্তু কোন কারণে বলেছি, ৩২–এ আক্রমণ এটা প্রতিহিংসার রাজনীতি। এটা ফিরে আসবে। সেটা বলেছি। ‘

তিনি বলেন, ‘জুলাইয়ের স্পিরিট কীভাবে বাড়বে, আমরা সেটা বলেছি। এখানে আমার ভুল কী হয়েছে, আমি জানি না। আমার সঙ্গে কারও যোগসূত্র নেই। ড. ইউনূস যদি চায়, সারা বাংলাদেশকে কারাগার বানাবে, বানাতে পারে।’

আনিস আলমগীর আদালতে বলেন, ‘আমি আফগানিস্তান ও ইরাক যুদ্ধে গিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করেছি, তালেবানরা আমাকে আটক করেছিল, কিন্তু আমি বেঁচে ফিরেছি। মৃত্যুকে আমি আর ভয় করি না।’

এর আগে রোববার (১৪ ডিসেম্বর) ধানমন্ডির একটি জিম থেকে আনিস আলমগীরকে ডিবি হেফাজতে নেয়া হয়। একই রাতে তিনি, অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওনসহ চারজনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় দেশকে অস্থিতিশীল ও অবকাঠামো ধ্বংসের ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। এছাড়া আসামিরা সোশ্যাল মিডিয়া ও টেলিভিশনের টকশোতে নিষিদ্ধ সংগঠনকে ফিরিয়ে আনার প্রচারণা চালাচ্ছিল।