আদালত প্রতিবেদকঃ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দৈনন্দিন বিচারিক কার্যক্রমে চরম অব্যবস্থাপনা ও পরিকাঠামো সংকটে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী। সোমবার (৪ মে) ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারকাজ শুরুর প্রাক্কালে চিফ প্রসিকিউটরকে উদ্দেশ্য করে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, সুযোগ-সুবিধার এই বেহাল দশা চলতে থাকলে তিনি প্রয়োজনে হেঁটে বা ঠেলাগাড়িতে চড়ে আদালতে আসবেন।
এদিন সকালে ট্রাইব্যুনালে আসার পথে যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে বিচারপতির সরকারি গাড়িটি মাঝরাস্তায় বিকল হয়ে পড়ে। ফলে চরম বিড়ম্বনায় পড়েন তিনি। শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশের গাড়িতে চড়ে তাকে আদালত চত্বরে পৌঁছাতে হয়। এজলাসে বসার পরপরই এই তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন তিনি।
বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর আসনে বসার পর চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামকে উদ্দেশ্য করে বিচারপতি বলেন, “আজ আসার পথে রাস্তায় গাড়ি নষ্ট হয়ে গেছে। পুলিশের গাড়িতে করে আসতে হয়েছে। কোর্ট রুমের অবস্থাও ভালো না। হয় হেঁটে আসব, নয় ঠেলাগাড়ি দিয়ে আসব। বিষয়টি উপর মহলে জানিয়ে দেন।”
জবাবে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানান, তিনি দ্রুত বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখবেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন।
শুধুমাত্র যাতায়াত ব্যবস্থা নয়, খোদ আদালত কক্ষের পরিবেশ নিয়েও ক্ষোভ বিরাজ করছে। জানা গেছে, গত রবিবার ট্রাইব্যুনাল-২-এর শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) নষ্ট হয়ে যাওয়ায় প্রচণ্ড গরমে বিচারক, আইনজীবী ও সংশ্লিষ্টরা চরম ভোগান্তির শিকার হন। দীর্ঘক্ষণ গরমে ঘামতে থাকা অবস্থায় বিচারকাজ সচল রাখা হয়। পরে সেটি মেরামত করা হলেও সোমবার আবারও এসি বিকল হয়ে পড়লে পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে ওঠে।
গুরুত্বপূর্ণ এই ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের পরিবহন সংকট এবং এজলাস কক্ষের নড়বড়ে পরিস্থিতি বিচারিক পরিবেশকে বাধাগ্রস্ত করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দেশের স্পর্শকাতর মামলার বিচারকাজ যেখানে চলছে, সেখানে বিচারপতির এমন মন্তব্য রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী মহলে পরিকাঠামো উন্নয়নের জরুরি বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

