
আদালত প্রতিবেদকঃ ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যায় প্ররোচনা ও উসকানি দেওয়ার গুরুতর অভিযোগে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রভাবশালী তারকা ও সাংবাদিকসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সামাজিক ও নাগরিক সংগঠন ‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’ (এসডিএফ)-এর পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) এই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়।
রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদল ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলামের কাছে অভিযোগপত্রটি হস্তান্তর করেন।
এসডিএফ-এর কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব আল নূর মোহাম্মদ আয়াসের নেতৃত্বে এ অভিযোগ জমা দেওয়া হয়। প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক মুহ্যমান শাহ্ আলম বাদশা, কেন্দ্রীয় সংগঠক মহাসিন এবং জুলাই আন্দোলনে আহত প্রত্যক্ষদর্শী আবু বকর ছিদ্দিক (তুহিন ফরাজী)।
ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সময়ে অপরাধে সহযোগী ও প্ররোচকের ভূমিকা পালনের অভিযোগে বিনোদন ও গণমাধ্যম জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযুক্ত করা হয়েছে। তালিকায় রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, সাবেক সংসদ সদস্য ফেরদৌস আহমেদ, আজিজুল হাকিম, রিয়াজ আহমেদ, সাইমন সাদিক, জায়েদ খান, সাজু খাদেম এবং আশরাফুল আলম (হিরো আলম)। মেহের আফরোজ শাওন, অরুণা বিশ্বাস, শমী কায়সার, রোকেয়া প্রাচী, মাহিয়া মাহি, নিপুণ আক্তার, তানভীন সুইটি, হৃদি হক, জ্যোতিকা জ্যোতি, সোহানা সাবা, পিয়া জান্নাতুল, শামীমা তুষ্টি, আশনা হাবীব ভাবনা, বর্ষীয়ান অভিনেত্রী সুজাতা আজিম, চন্দন রেজা ও মারিয়া কিসপট্টা। উপস্থাপিকা শান্তা ফারজানা, সাংবাদিক আনিস আলমগীর, মোমিন মেহেদী ও সোমা ইসলাম।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া আবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দিনগুলোতে রক্তক্ষয়ী গণহত্যা দমন করতে প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বার্তা ছড়িয়েছিলেন। এসডিএফ নেতৃবৃন্দ ট্রাইব্যুনালের অধীনে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ এবং কঠোর আইনানুগ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দ্রুত শাস্তির আওতায় আনার জোর দাবি জানান।
অভিযোগ জমা শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এসডিএফ সদস্যসচিব আল নূর মোহাম্মদ আয়াস বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে চব্বিশের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ও আওয়ামী শাসন ব্যবস্থার পতন ঘটেছে। দেশে আর কখনো তাদের ফিরে আসার সুযোগ নেই। কিন্তু আফসোসের বিষয় হলো, শান্তা ফারজানা ও মোমিন মেহেদীর মতো দোসররা এখনো সেই রক্তঝরা গণঅভ্যুত্থানকে কটাক্ষ করে চলেছেন।”
তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদের অনুসারীরা আজকাল কৌশল বদলে আইনজীবী বা শিক্ষাবিদ রূপ ধারণ করে সমাজে ফিরে আসার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। সচেতন নাগরিক সমাজ ও রাজপথের তরুণরা কোনোভাবেই এই দোসরদের নতুন কোনো পরিচয়ে পুনর্বাসিত হতে দেবে না।
