আদালত প্রতিবেদকঃ রাজধানীর মহাখালীতে বিয়ের দাবিতে বাগ্বিতণ্ডার জেরে নবযোগদানকৃত এক রেল কর্মকর্তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে পেটে ও গোপনাঙ্গে আঘাত করে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। পরকীয়া সম্পর্কের টানাপোড়েন থেকে ঘটে যাওয়া এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত প্রেমিকা বিউটি আক্তারকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় আদালত আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
নিহত যুবকের নাম মো. মামুন (৩০)। তিনি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মালিয়াটি গ্রামের বাবুল আহমেদের ছেলে। পেশাগত জীবনে তিনি অত্যন্ত উজ্জ্বল সম্ভাবনার মুখ ছিলেন—চলতি মাসের ১ জুলাই তিনি বাংলাদেশ রেলওয়েতে দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা (সেকেন্ড ক্লাস অফিসার) হিসেবে যোগদান করেছিলেন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় পাঁচ বছর আগে জান্নাত নামের এক নারীর সঙ্গে মামুনের বিয়ে হয়। বর্তমানে তার স্ত্রী গর্ভবতী এবং গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করছেন।
ঘটনাটি ঘটে শনিবার (১১ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে মহাখালীর টিভি গেট এলাকার ৮ নম্বর বাসার একটি ভাড়া কক্ষে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, চিকিৎসার কথা বলে গত ১০ জুলাই ঢাকায় এসে মহাখালীর ওই বাসাটি ভাড়া নেন অভিযুক্ত বিউটি আক্তার। পরদিন ১১ জুলাই বেলা আনুমানিক ১১টার দিকে মামুন সেখানে দেখা করতে গেলে বিউটি তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকেন। মামুন বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় দুজনের মধ্যে তীব্র কথাকাটাকাটি শুরু হয়। বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে বিউটি ধারালো অস্ত্র দিয়ে মামুনের পেটে উপ্যুপরি ছুরিকাঘাত করেন এবং তার পুরুষাঙ্গ কেটে দেন।
মামুনের আর্তচিৎকার শুনে বাড়ির মালিক মো. সুমনসহ স্থানীয়রা রক্তভেজা অবস্থায় তাকে উদ্ধার করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। সেখানে নিবিড় চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা ৭টার দিকে মামুন মারা যান।
ঘটনার খবর পেয়ে বনানী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত বিউটি আক্তারকে আটক করে। পরে নিহতের চাচা মো. শমসের আলী বাদী হয়ে বনানী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ বক্সের ইনচার্জ পরিদর্শক মোহাম্মদ ফারুক জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি থানা পুলিশকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।
ঘটনার পর আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। পরবর্তীতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বনানী থানার এসআই তারেক হাসান আসামির ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
রোববার (২৬ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে আসামি বিউটি আক্তারকে হাজির করা হয়। ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) মোক্তার হোসেন রিমান্ডের পক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন। আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত না থাকলেও, আদালত উভয় পক্ষের তথ্য ও মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে অভিযুক্ত বিউটি আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
পুলিশের ধারণা, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে আর কোনো পরিকল্পনা বা সহযোগী ছিল কি না, তা বিস্তারিত উন্মোচিত হবে।

