১৮ মাসে ৮০ শতাংশের বেশি সংস্কার বাস্তবায়ন: প্রকাশিত হলো সরকারের ‘রিফর্ম বুক’

0
১৮ মাসে ৮০ শতাংশের বেশি সংস্কার বাস্তবায়ন: প্রকাশিত হলো সরকারের ‘রিফর্ম বুক’

বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ ১৬ বছরের দমনমূলক শাসন আর ভেঙে পড়া রাষ্ট্রকাঠামো পুনর্গঠনে অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের কাজের খতিয়ান নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে বিশেষ সংকলন ‘রিফর্ম বুক’। আজ রোববার সকালে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বইটিতে ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত বিভিন্ন খাতে নেওয়া সংস্কারের বিস্তারিত বিবরণ এবং ভবিষ্যৎ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে।

সংখ্যায় ১৮ মাসের সংস্কার চিত্রঃ

আইন প্রণয়ন: ১৮ মাসে নতুন ও সংশোধিত মিলিয়ে প্রায় ১৩০টি আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। নির্বাহী সিদ্ধান্ত: ৬শ’রও বেশি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাহী সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বাস্তবায়নের হার: গৃহীত সংস্কার উদ্যোগগুলোর প্রায় ৮৪ শতাংশ ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে।

খাতভিত্তিক প্রধান সংস্কারসমূহ:

জাপান: অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তির ফলে ৭,৪০০টি পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা লাভ। চীন: ঋণের মেয়াদ পুনর্নির্ধারণ এবং স্বাস্থ্য ও বন্যা পূর্বাভাস ব্যবস্থায় প্রযুক্তিগত সহায়তা। যুক্তরাষ্ট্র: পারস্পরিক শুল্কহার ৩৭% থেকে কমিয়ে ২০%-এ নামিয়ে আনা। ভারতঃ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিক সম্মানভিত্তিক পর্যায়ে উন্নীতকরণ।

বিচার বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাঃ

সব আদালতকে সুপ্রিম কোর্টের প্রশাসনিক অধীনে আনা এবং যোগ্যতাভিত্তিক বিচারপতি নিয়োগ। র‍্যাবের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স’। তদন্তের মুখে প্রায় ১,২০০ কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

দুর্নীতিবিরোধী অভিযান ও ব্যাংকিং খাতঃ

বিগত সরকারের শতাধিক প্রভাবশালী নেতা ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা। বিলিয়ন ডলারের সম্পদ জব্দ করার প্রক্রিয়া শুরু। পরিসংখ্যান ব্যুরোকে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন প্রদান এবং ৪২টি মন্ত্রণালয়ে স্বচ্ছ ক্রয়প্রক্রিয়া নিশ্চিতকরণ।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও ‘জুলাই সনদ’ঃ সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সব রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার। বন্ধ থাকা গণমাধ্যম খুলে দেওয়া এবং রাজনৈতিক কোনো হস্তক্ষেপ না করার প্রতিশ্রুতি। সাত মাসব্যাপী সংলাপের মাধ্যমে ‘জুলাই সনদ’ প্রণয়ন, যা সাংবিধানিক সংস্কারের ভিত্তি হিসেবে গণভোটের অপেক্ষায় রয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, “১৬ বছরের বিশাল ক্ষতি ১৮ মাসে পুরোপুরি পূরণ করা সম্ভব নয়। তবে বাংলাদেশ এখন কর্তৃত্ববাদী শাসন থেকে দৃঢ়ভাবে সরে এসেছে। ২০২৪ সালের জুলাই-অগাস্টের গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাই হবে আমাদের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের মূল দিশারী।”

সূত্রঃ বাসস