বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশ এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ে পদার্পণ করতে যাচ্ছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করা বিএনপি এখন রাষ্ট্র পরিচালনার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান হতে যাচ্ছেন দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী। সূত্র বলছে, আগামীর মন্ত্রিসভা হবে ‘অভিজ্ঞ ও মেধাবী তারুণ্যের’ এক সুষম সমন্বয়।
বর্তমানে ৫৮টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ থাকলেও তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন মন্ত্রিসভার আকার ছোট হতে যাচ্ছে। জনমনে ব্যাপক কৌতূহল থাকলেও বিশ্বস্ত সূত্র বলছে, মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা ৩০ জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। যার মূল লক্ষ্য হবে প্রশাসনিক ব্যয় কমানো এবং কাজের গতি বৃদ্ধি করা।
নতুন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ও নীতিনির্ধারণী মন্ত্রণালয়গুলোতে দলের প্রবীণ ও বিশ্বস্ত নেতাদের নাম জোরেশোরে আলোচিত হচ্ছে:
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর: ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে জয়ী এই প্রবীণ নেতা গুরুত্বপূর্ণ কোনো মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন, তবে তাকে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি করার জোরালো আলোচনাও রয়েছে।
স্থায়ী কমিটির শীর্ষ নেতৃত্ব: ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মির্জা আব্বাস, ড. আব্দুল মঈন খান এবং আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর মতো অভিজ্ঞ সাবেক মন্ত্রীদের গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী মন্ত্রণালয়গুলোতে দেখা যেতে পারে।
আঞ্চলিক ও প্রভাবশালী নেতা: কক্সবাজার থেকে নির্বাচিত সালাহউদ্দিন আহমদ, কুমিল্লার কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ এবং দিনাজপুরের ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনকে বড় কোনো দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।
মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ: দক্ষ ও অভিজ্ঞ এই নেতাকে প্রতিরক্ষা বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো স্পর্শকাতর দায়িত্বে দেখা যেতে পারে।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী: আন্তর্জাতিক ও অর্থনৈতিক বিষয়ে তাঁর দক্ষতা বিবেচনায় তাকে পররাষ্ট্র বা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
ড. আবদুল মঈন খান: শিক্ষা বা পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন এই শিক্ষাবিদ ও রাজনীতিবিদ।
নির্বাচনে জয়ের পর নতুন ধারার রাজনীতি প্রতিষ্ঠায় বেশ কিছু নতুন ও গতিশীল মুখকে মন্ত্রিসভায় আনার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে:
আন্দালিভ রহমান পার্থ: বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) এই চেয়ারম্যান ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর বাগ্মিতা ও জনপ্রিয়তার কারণে তিনি মন্ত্রিসভার অন্যতম আকর্ষণ হতে পারেন।
জোনায়েদ সাকি: গণসংহতি আন্দোলনের এই নেতাকে জোটে ও আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকার পুরস্কারস্বরূপ মন্ত্রিসভায় দেখা যেতে পারে।
ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন: চিকিৎসক নেতা হিসেবে তাকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।
লুৎফুজ্জামান বাবর: নেত্রকোণা থেকে বিপুল ভোটে জয়ী এই সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে পুনরায় কোনো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আনা হবে কি না, তা নিয়ে দলের ভেতরে ব্যাপক গুঞ্জন রয়েছে।
ববি হাজ্জাজ: জোটের শরিক হিসেবে তিনিও আলোচনায় রয়েছেন।
নুরুল হক নুর (গণঅধিকার পরিষদ): তরুণ ছাত্রনেতা হিসেবে তাঁর মন্ত্রিসভায় থাকার গুঞ্জন তুঙ্গে।
ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ও ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন: আইনি অঙ্গনে সাহসিকতার পুরস্কার হিসেবে।
শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ও সুলতান সালাউদ্দিন টুকু: রাজপথের ত্যাগী নেতা হিসেবে।
শামা ওবায়েদ ও অনিন্দ্য ইসলাম অমিত: দলের আন্তর্জাতিক ও সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে।
ইশরাক হোসেন ও মিয়া নুরুদ্দিন অপু: তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে।
দলের স্থায়ী কমিটির প্রবীণ নেতা নজরুল ইসলাম খান-কে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা বা সমমানের কোনো পদে দেখা যেতে পারে। এছাড়া জনপ্রশাসন বা অর্থ মন্ত্রণালয়ের মতো টেকনিক্যাল খাতে অভিজ্ঞ সাবেক আমলাদের অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনাও দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে রয়েছে।
বিএনপি সূত্র জানায়, এবারের মন্ত্রিসভায় সকল ধর্মাবলম্বী ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হবে। পার্বত্য অঞ্চলের একজন প্রভাবশালী নেতা এবং হিন্দু ধর্মাবলম্বী অন্তত একজন প্রবীণ নেতাকে পূর্ণ মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী করার সম্ভাবনা রয়েছে।

