বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে সমাজের নানা প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছানো ছয়জন সাহসী নারীকে ‘শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ সম্মাননায় ভূষিত করেছে সরকার। রোববার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে এই রাষ্ট্রীয় পদক তুলে দেওয়া হয়।
এ বছরের পুরস্কারের তালিকায় বিশেষ চমক ও গুরুত্ব পেয়েছে বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নাম। নারী শিক্ষা বিস্তার এবং দেশের গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় অনবদ্য ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে মরণোত্তর ‘শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের হাত থেকে খালেদা জিয়ার পক্ষে এই গৌরবময় স্মারক গ্রহণ করেন তাঁর নাতনি ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।
প্রথা অনুযায়ী, প্রতি বছরের মতো এবারও পাঁচটি সুনির্দিষ্ট ক্যাটাগরিতে সমাজের তৃণমূল পর্যায় থেকে উঠে আসা পাঁচজন অদম্য নারীকে পুরস্কৃত করা হয়েছে, অর্থনৈতিক সাফল্য অর্জন করায় পুরস্কার পেয়েছেন নুরুন নাহার আক্তার। শিক্ষা ও চাকরিক্ষেত্রে অভাবনীয় সাফল্যের জন্য পুরস্কৃত হয়েছেন মোছা. ববিতা খাতুন। এ ছাড়া সন্তানদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলায় ‘সফল জননী’ ক্যাটাগরিতে নুরবানু কবীর, নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন করে বাঁচার লড়াইয়ে জয়ী হওয়ায় ‘জীবন সংগ্রামে জয়ী নারী’ ক্যাটাগরিতে মোছা. শমলা বেগম এবং সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদানের জন্য মোছা. আফরোজা ইয়াসমিন এই রাষ্ট্রীয় সম্মাননা লাভ করেন।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নারীদের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে আরও বেশি আগ্রহী করে তুলতেই এই রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, প্রতিকূলতা প্রতিটি নারীর জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ, কিন্তু যারা মেধা আর অদম্য সাহসের জোরে সেই দেয়াল ভাঙতে পারেন, তারাই সমাজের আলোকবর্তিকা।
এই সাহসী নারীদের জীবনগাথা নতুন প্রজন্মের নারীদের মনে আত্মবিশ্বাস জোগাবে এবং একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে অনুপ্রেরণা দেবে বলে বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

