মধ্যপ্রাচ্য সংকটে উত্তাল তেলের বাজার: দেশে লিটারে ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়ল দাম

0
মধ্যপ্রাচ্য সংকটে উত্তাল তেলের বাজার: দেশে লিটারে ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়ল দাম

বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধাবস্থা এবং বিশ্ববাজারে অস্থিতিশীলতার প্রভাব অবশেষে আছড়ে পড়ল বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে। দেড় মাসের অস্থিরতা আর সংকটের গুঞ্জনের অবসান ঘটিয়ে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই দাম সমন্বয়ের কথা জানানো হয়েছে।

সরকার ঘোষিত নতুন দাম অনুযায়ী, প্রতি লিটার জ্বালানিতে সর্বোচ্চ ২০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। নিচের তালিকায় বিস্তারিত দেওয়া হলো:

১৯ এপ্রিল ২০২৬, রবিবার মধ্যরাত থেকে।

জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ‘জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ নির্দেশিকা (সংশোধিত)’ অনুযায়ী বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই দাম বাড়ানো হয়েছে।

ইরান-ইসরাইল ও মার্কিন উত্তেজনার কারণে বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি সরবরাহ রুট ‘হরমুজ প্রণালি’ দিয়ে তেল পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। এতে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় হু হু করে বাড়ছে দাম।

সরকার এতদিন জনস্বার্থে দাম অপরিবর্তিত রাখলেও বিশ্ববাজারের অসহনীয় ঊর্ধ্বগতির কারণে শেষ পর্যন্ত দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছে।

গত কয়েকদিন ধরে দেশের পেট্রোল পাম্পগুলোতে তেলের জন্য দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। তবে সরকার একে ‘আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত ক্রয়’ (Panic Buying) হিসেবে দেখছে। সংকটের সুযোগ নিয়ে যারা অবৈধ মজুত গড়ে তুলেছিল, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে সারাদেশে ইতোমধ্যে পাঁচ লাখ লিটারের বেশি অবৈধ তেল উদ্ধার করা হয়েছে।

এর আগে গত ৭ এপ্রিল বিমানে ব্যবহৃত জেট ফুয়েলের দামও দফায় দফায় বাড়ানো হয়েছিল। অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম বর্তমানে ২২৭ টাকা ০৮ পয়সা, যা এর আগে ২০২ টাকা ২৯ পয়সা ছিল।

সর্বশেষ গত ১ ফেব্রুয়ারি জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২ টাকা কমানো হয়েছিল। তবে বিশ্ব পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হওয়ায় সেই সুফল বেশিদিন ধরে রাখা সম্ভব হলো না। নতুন এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে পরিবহন ও নিত্যপণ্যের বাজারে বাড়তি চাপ সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সাধারণ মানুষ।