বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে ‘জাতীয় পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬’। রোববার সকালে এই উৎসবের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি পুলিশ বাহিনীকে জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলা এবং যেকোনো রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে পুলিশকে কোনো বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর স্বার্থে ব্যবহার করার সংস্কৃতির অবসান ঘটানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন “ভবিষ্যতে আর কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তি যেন পুলিশকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে না পারে, সেজন্য বাহিনীকে নতুন করে শপথ নিতে হবে। কোনো রাজনৈতিক দল যেন এই বাহিনীকে দমন-পীড়নের হাতিয়ার বানাতে না পারে, তা নিশ্চিত করাই আমাদের সরকারের লক্ষ্য।”
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বর হামলার স্মৃতি স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার জন্য যে পুলিশ সদস্যরা প্রথম প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন এবং আত্মাহুতি দিয়েছিলেন, তাদের সেই ত্যাগের মর্যাদা রক্ষায় যেকোনো মূল্যে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে সমুন্নত রাখতে হবে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনের উদাহরণ টেনে তারেক রহমান বলেন, উক্ত নির্বাচন প্রমাণ করেছে যে একটি স্বাধীন ও পেশাদার বাহিনী চাইলে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধানই পুলিশের মূল ব্রত হওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে বাংলাদেশ পুলিশের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে বিদেশের মাটিতে অর্জিত সুনাম দেশের অভ্যন্তরেও বজায় রাখতে হবে। জনগণের সঙ্গে পুলিশের আচরণ হবে সম্পূর্ণ মানবিক ও জনবান্ধব। সাধ্য ও সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
‘আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী বর্ণিল প্যারেড পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন। চার দিনব্যাপী এই পুলিশ সপ্তাহের সার্বিক সাফল্য কামনা করে তিনি বাহিনীর আধুনিকায়নে সরকারের নিরলস প্রচেষ্টার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

