“তোষণের রাজনীতি শেষ, লক্ষ্য অনুপ্রবেশকারীমুক্ত বাংলা”: জামায়াত ও মমতাকে কড়া হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

0
"তোষণের রাজনীতি শেষ, লক্ষ্য অনুপ্রবেশকারীমুক্ত বাংলা": জামায়াত ও মমতাকে কড়া হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর সরকারের অধীনে রাজ্যে কোনো ধরনের তোষণের রাজনীতি চলবে না। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের পর ভারতের বিরোধী দলগুলোর চেয়ে বাংলাদেশের ‘জামায়াতে ইসলামী’ বেশি অস্থির হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সাথে অনুপ্রবেশকারীদের তাড়ানো এবং রাজ্যে ধর্মীয় ভিত্তিতে দেওয়া সব ধরনের সরকারি ভাতা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

সোমবার (১৮ মে) সন্ধ্যায় কলকাতার ভবানীপুর আসনে ভোটারদের পক্ষ থেকে আয়োজিত এক ধন্যবাদ জ্ঞাপন অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে এই হাইপ্রোফাইল আসনে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জিকে ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটে পরাজিত করেন শুভেন্দু।

অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে বাংলাদেশের উগ্রপন্থী রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামীকে কড়া বার্তা দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন “আমি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর কংগ্রেস, তৃণমূল বা সিপিআইএমের চেয়েও বাংলাদেশের জামায়াতিদের ‘চিড়বিড়ানি’ (অস্থিরতা) অনেক বেড়ে গেছে। আরে ভাই, আমি ভয় পাওয়ার লোক নই, মাথা নোয়ানোর লোকও নই। ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। বিজেপি দেশের সুরক্ষাকে সবার আগে দেখে। সীমান্ত সুরক্ষিত করা এবং অ-ভারতীয় অনুপ্রবেশকারীদের যেখান থেকে এসেছে সেই রাস্তায় বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর কাজ এই সরকার করবে।”

তিনি আরও যোগ করেন, ভোটার তালিকা থেকে ইতিমধ্যে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের নাম শনাক্ত ও বাতিল করা হয়েছে, এবার তাদের প্রত্যর্পণের (ডিপোর্টেশন) সময় এসেছে।

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর সোমবার মন্ত্রিসভার দ্বিতীয় বৈঠকেই বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। পশ্চিমবঙ্গে ধর্মীয় শ্রেণিবিন্যাসের ভিত্তিতে চলমান সব সরকারি প্রকল্প ও ভাতা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে ইমাম, মোয়াজ্জেম ও সনাতন ধর্মের পুরোহিতদের দেওয়া মাসিক ভাতা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেল।

এই সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিয়ে শুভেন্দু প্রশ্ন তোলেন, “কোনো সরকারের কাজ কি ইমাম-মোয়াজ্জেমদের ভাতা দেওয়া, নাকি শিক্ষার উন্নতি ও কর্মসংস্থান করা?” তিনি জানান, ভাতার এই বিপুল অর্থ এখন থেকে ‘বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপ’ প্রকল্পে যুক্ত করা হবে, যার সুবিধা হিন্দু, মুসলিম, শিখ, খ্রিস্টান সব ধর্মের মেধাবী শিক্ষার্থীরা সমানভাবে পাবে।

রোববার কলকাতার পার্ক সার্কাসে পুলিশ সদস্যদের ওপর হওয়া হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “পুলিশের ওপর ইট-পাথর ছুড়লে তার ফল ভুগতেই হবে। আসানসোলের পুলিশ ফাঁড়িতে যারা ভাঙচুর করেছে, তাদের গ্রেপ্তার করে সেই ক্ষতির ‘২০০ শতাংশ’ উসুল করা হবে।”

নিজের বুথেই মমতা ব্যানার্জির পরাজয়ের কথা উল্লেখ করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “মিত্র ইনস্টিটিউশনের চারটি বুথেই মমতা হেরেছেন, সবখানেই বিজেপি লিড পেয়েছে। যিনি নিজের বুথ রক্ষা করতে পারেন না, তাঁকে বাংলার মানুষ দরজা দেখিয়ে দিয়েছে। ওনার রাজনৈতিক দিন শেষ—টাটা, বাই বাই, খতম!”

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জিসহ চার নেতার বিপুল সম্পত্তির দিকে ইঙ্গিত করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে আইনি তদন্ত হবে এবং লুটেরাদের কারাগারে পাঠানো হবে।

নিজেকে সাধারণ মানুষের ‘ভাই’ হিসেবে আখ্যায়িত করে শুভেন্দু ভবানীপুরবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, দ্রুতই সাধারণ মানুষের সমস্যা সরাসরি শোনার জন্য একটি হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হবে এবং মমতা ব্যানার্জির রাজনৈতিক অহংকার চূর্ণ করে ভোটাররা যে বিশ্বাসের মর্যাদা দিয়েছেন, তিনি তা রক্ষা করবেন।