জঙ্গল সলিমপুরে পুলিশ-র‍্যাবের ওপর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

0
জঙ্গল সলিমপুরে পুলিশ-র‍্যাবের ওপর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না এবং দেশের কোথাও তাদের কোনো অভয়ারণ্য গড়ে তুলতে দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সম্প্রতি চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনাটি সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়েছে এবং এর বিরুদ্ধে দ্রুত দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।

মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে পুলিশ সদরদপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রামে পুলিশ ও র‍্যাবের ওপর সাম্প্রতিক হামলার বিষয়টি সামনে আনা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “জঙ্গল সলিমপুরসহ অন্যান্য জায়গায় র‍্যাব ও পুলিশের ওপর যে হামলা হয়েছে, সেটা আমরা খুব গভীরভাবে দেখেছি। এ বিষয়ে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি, যা খুব শিগগিরই দৃশ্যমান হবে।”

জঙ্গল সলিমপুরের পূর্বের অরাজক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “দীর্ঘ ১৭ বছর দেশে আইনের শাসন ছিল না এবং দুর্বৃত্তায়নের একটি মহামারি চলছিল। জঙ্গল সলিমপুরকে আমরা রাষ্ট্রের ভেতরে আরেকটি রাষ্ট্র হতে দেখেছি। তবে বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, সেখানে চালানো যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধারসহ বহু দাগি আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জঙ্গল সলিমপুরকে অপরাধমুক্ত করে সেখানে সরকারের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো পুলিশ একাডেমি ও র‍্যাব একাডেমি, ক্রীড়া কমপ্লেক্স, চট্টগ্রাম জেলা কারাগার (যা পূর্বে থেকেই নির্ধারিত ছিল)

তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ওই এলাকায় সন্ত্রাসীরা তাদের পুরোনো আধিপত্য ধরে রাখার চেষ্টা করছে। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর তারা যে উদ্ধত আচরণ ও দুঃসাহস দেখিয়েছে, তা অত্যন্ত কঠোর হস্তে দমন করা হবে।

দেশের সার্বিক সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বর্তমানে সীমান্তে জাতীয়ভাবে উত্তেজনা তৈরি হওয়ার মতো কোনো বড় ঘটনা ঘটেনি।

তিনি বলেন, সীমান্তে বিচ্ছিন্ন কিছু পাল্টাপাল্টি গোলাগুলির ঘটনা ঘটলেও তা একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ। বিজিবির মহাপরিচালক তাৎক্ষণিকভাবে এই বিষয়গুলো তদারকি করছেন। যেকোনো সমস্যা তৈরি হলে তা দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে ‘ফ্ল্যাগ মিটিং’ বা পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করা হচ্ছে।