বিশেষ প্রতিবেদক: বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শারীরিক গুরুতর অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন। আজ শুক্রবার (২৪ জুলাই) জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন।
রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পরপরই সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা মেনে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের লক্ষে প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
পদত্যাগপত্রে মো. সাহাবুদ্দিন উল্লেখ করেন, তিনি হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং কিডনিজনিত জটিলতায় ভুগছেন। সম্প্রতি তাঁর ‘অটোনমিক নিউরোপ্যাথি’ নামক রোগও শনাক্ত হয়েছে, যার ফলে তিনি মাঝে মাঝে ক্ষণিক জ্ঞান হারাচ্ছেন। দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার জন্য এবং শারীরিক-মানসিক অসামর্থ্যের কারণে সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তিনি রাষ্ট্রপতির পদ থেকে ইস্তফা দিলেন।
ইসি কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানান, সংবিধানের নিয়ম মেনে দ্রুত নির্বাচনী তপশিল ঘোষণা করা হবে।
সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ: রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ: নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে রাষ্ট্রপ্রধানের দ্বায়িত্ব পালন করবেন।
১৯৯১ সালের ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন’ অনুসরণে পুরো নির্বাচন সম্পন্ন হবে এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) নিজেই এতে রিটার্নিং কর্মকর্তার ভূমিকা পালন করবেন।
সাপ্তাহিক ছুটির পর আগামী রোববার (২৬ জুলাই) অথবা সপ্তাহের শুরুতেই কমিশন বৈঠকে বসে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তপশিল নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ আশ্বস্ত করে বলেছেন, “সংবিধানের বিধান বজায় রেখে খুব দ্রুত রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করা হবে।”

