ট্রেনে অগ্নিসংযোগের ঘটনার আন্তর্জাতিক তদন্ত চায় বিএনপি

0
ট্রেনে অগ্নিসংযোগের ঘটনার আন্তর্জাতিক তদন্ত চায় বিএনপি

বাংলাদেশ প্রতিবেদক: রাজধানীর তেজগাঁওয়ে একটি ট্রেনে দুষ্কৃতকারীদের দেয়া আগুনে চার যাত্রীর নিহত হওয়ার ঘটনায় জাতিসংঘের অধীনে একটি আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি জানিয়েছে বিএনপি। বৃহস্পতিবার বিকালে এক ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানান বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, রাজধানীর তেজগাঁওয়ে মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনে আগুনে চারজন মারা গেছেন। এরমধ্যে কিন্তু একজন বিএনপির নেতা। নেত্রকোনা জেলা বিএনপির সিনিয়র সদস্য এবং গুরুত্বপূর্ণ নেতা। আমি আওয়ামী লীগের নেতাদের বলতে চাই, নিজের লোককে নিজে কেউ আঘাত করে না। এটা যে সরকারের একেবারেই একটি পরিকল্পিত ঘটনা, তা আবারও প্রমাণিত। মারা তো গেলো মা, শিশুসহ বিএনপির নেতা। অপরাধ করলে অপরাধের তো কিছু চিহ্ন রয়ে যায়। আমি সেদিন বলেছি, বিচার বিভাগীয় তদন্ত। না।

বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ সরকারের নিয়ন্ত্রণে। এই ঘটনার আমরা জাতিসংঘের অধীনে একটি আন্তর্জাতিক তদন্ত চাই।
তিনি বলেন, কেরানীগঞ্জ এবং কাশিমপুর কারাগারে বিএনপির নেতাকর্মীদের যেখানে কারারুদ্ধ করে রাখা হয়েছে, তাদের যে বর্তমান অবস্থা এবং পরিস্থিতি তা অবর্ণনীয়, যা বর্ণনা করা যায় না। সেখানে এতো নিষ্ঠুর ও নিপীড়ন করা হচ্ছে। এমনভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে, এটা আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না। তাদের আত্মীয়-স্বজনেরা যারা জেলখানায় দেখা করতে যান তারা এসে যে হৃদয়বিদারক বর্ণনা দেন তা মানুষ হিসেবে মানুষের হৃদয়ে এমনভাবে নাড়া দেয়, এটা চিন্তা করা যায় না। এটা ভাবনার বাইরে।

রিজভী বলেন, ওরা (সরকার) এধরণের নিপীড়নের মাত্রা আরো তীব্রতর করে দেশ থেকে সরকারবিরোধী কণ্ঠস্বরকে নিস্তব্ধ করে দেয়ার জন্য সকল আয়োজন এবং সকল প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। সেখানে নিপীড়ন-নির্যাতন করে ক্ষ্যান্ত হচ্ছে না। চারিদিকে কারাগারের যে পরিস্থিতি, সেখানে সারাদেশটাকেই কারাগারে পরিণত করে মানুষকে বন্দিশালায় মধ্যে আর্তনাদ করারও সুযোগ দিচ্ছে না এই সরকার।

তিনি আরো বলেন, নির্বাচনের মাঠ একতরফা করার জন্য সরকারের যে প্রচেষ্টা, এই প্রচেষ্টার মধ্যে তারা কতগুলো পদক্ষেপ নিয়েছে। এরমধ্যে বিরোধী ও গণতন্ত্রশক্তিকে ভয় দেখানো, তাদের নামে মিথ্যা মামলা দেয়া, পরিকল্পিত-পূর্বনির্ধারিত-পূর্বপরিকল্পিত নাশকতা করে- সেই নাশকতার মধ্যে তাদের নাম দেয়া। এরপরেও যদি দমানো না যায় তারপরে কারাগারে বিনা চিকিৎসায় মেরে ফেলা! আর সরকারের এই অত্যাচার, নির্যাতন ও নিপীড়নের মধ্যে দিয়ে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে জানান দিয়েছে যে, জনসমর্থন স্বৈরাচার সরকারের পক্ষে নেই। তারা যেটা করছে, সেটা গায়ের জোরে করছে।

সংবাদ সম্মেলনে গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার, মামলা, আসামি, মৃত্যু ও আহতদের সংখ্যা তুলে ধরেন তিনি। রিজভী জানান, এসময়ে গ্রেপ্তার হয়েছে ২৩৫ জন নেতাকর্মী, আহত হয়েছে ৩০ জন, মারা গেছে ২ জন এবং মামলা দায়ের করা হয়েছে ৯টি। এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে ৮৪৬ জন নেতাকর্মীকে।