বিশেষ প্রতিবেদকঃ শুরু হলো ক্ষমতার লড়াইয়ের চূড়ান্ত ক্ষণ। জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আজ থেকে সারাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারযজ্ঞ। দেশের রাজনৈতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে সংগতি রেখে এবারও আধ্যাত্মিক কেন্দ্র, বীর শহীদদের মাজার এবং শহীদমিনারকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হচ্ছে নির্বাচনী প্রচারের শুভ মহরত। পোস্টার, ব্যানার আর স্লোগানে মুখরিত জনপদগুলো এখন যেন এক একটি নির্বাচনী রণক্ষেত্র।
বিএনপি: সিলেট থেকে ‘থিম সং’ সংবলিত ম্যারাথন সফর। প্রথা অনুযায়ী আধ্যাত্মিক রাজধানী সিলেট থেকেই নির্বাচনী অভিযাত্রা শুরু করেছে বিএনপি। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত শেষে একদিনেই সিলেট থেকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত ছয়টি জেলায় বিশাল জনসভায় যোগ দিচ্ছেন।
বিশেষ চমক হিসেবে গতকাল মধ্যরাতে রাজধানীর এক অভিজাত হোটেলে উন্মোচন করা হয়েছে বিএনপির নির্বাচনী ‘থিম সং’। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে ভোটারদের হৃদয়ে জায়গা করে নিতে এটি দলটির একটি কৌশলী বিপণন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
১০ দলীয় জোট ও জামায়াত: ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গঃ ১০ দলীয় জোটের অন্যতম শক্তি জামায়াতে ইসলামী আজ রাজধানী থেকেই তাদের শক্তিমত্তা জানান দিচ্ছে। ঢাকা-১৫ আসনে দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান মিরপুরে জনসভার মাধ্যমে প্রচার শুরু করেছেন। আগামীকাল তিনি উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার দিনাজপুর হয়ে রংপুর বিভাগে সফরী প্রচার চালাবেন।
নতুন প্রজন্মের রাজনীতি: এনসিপি ও যুক্তফ্রন্টঃ জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রথাগত রাজনীতির বাইরে গিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনকে গুরুত্ব দিচ্ছে। তিন নেতার মাজার ও শহীদ ওসমান হাদির কবর জিয়ারতের মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, সিপিবি-বাসদসহ বাম দলগুলোর জোট ‘যুক্তফ্রন্ট’ কেন্দ্রীয় শহীদমিনার থেকে শপথ নিয়ে ‘জনগণের নিজস্ব রাজনৈতিক শক্তি’ গড়ার ডাক দিয়েছে।
জাতীয় পার্টি: জিএম কাদের বরাবরের মতো রংপুরে পৈত্রিক ভিটা ও এইচএম এরশাদের কবরে শ্রদ্ধা জানিয়ে যাত্রা শুরু করেছেন।
বামপন্থী দলসমূহ: বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক ‘কোদাল’ প্রতীক নিয়ে কারওয়ান বাজারে গণসংযোগে নেমেছেন। গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘মাথাল’ মার্কা নিয়ে শুরু করেছেন ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা।
জেএসডি ও ইসলামী আন্দোলন: আ স ম রবের জেএসডি শাহ আলী মাজার ও লক্ষ্মীপুরে পৃথকভাবে প্রচার শুরু করেছে। তবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ভিন্ন পথে হেঁটে কোনো কেন্দ্রীয় আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই যার যার নির্বাচনী এলাকা থেকে বিকেন্দ্রীভূত প্রচার শুরু করেছে।

