আজকের ডেস্কঃ দেশের রাজনীতিতে বড় ধরনের দলবদল ও নতুন মেরুকরণের আভাস দিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী এবং সংবিধান প্রণয়ন কমিটির অন্যতম সদস্য অধ্যাপক ড. আবু সাইয়িদ। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সখ্য ছিন্ন করে প্রবীণ এই নেতার বিএনপিতে অন্তর্ভুক্তি রাজনৈতিক মহলে বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন। বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
অধ্যাপক ড. আবু সাইয়িদ বাংলাদেশের ইতিহাসের অনেক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সাক্ষী। তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের উল্লেখযোগ্য কিছু দিক হলো:
১৯৭২ সালে গঠিত ৩৪ সদস্য বিশিষ্ট বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৭০ সালে তৎকালীন পাকিস্তান ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির সদস্য এবং পরবর্তীতে পাবনা থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক পাবনা জেলার গভর্নর নিযুক্ত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাবেক ভিপি হিসেবে ছাত্র রাজনীতিতেও উজ্জ্বল ভূমিকা রেখেছেন।
১/১১-এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে ড. আবু সাইয়িদ কিছুটা কোণঠাসা হয়ে পড়েন। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও জয়ী হতে পারেননি। দীর্ঘ সময় ক্ষমতার কক্ষপথের বাইরে থাকার পর অবশেষে তিনি বিএনপির পতাকাতলে শামিল হলেন।
রাজনীতির পাশাপাশি শিক্ষা ও গবেষণায় তিনি অনন্য স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০১৩ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। তার গবেষণার বিষয় ছিল বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন প্রবীণ সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও অভিজ্ঞ নেতার বিএনপিতে যোগদান দলটির নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে বাড়তি শক্তি যোগাবে। বিশেষ করে পাবনা অঞ্চলে বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি আরও সুদৃঢ় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

