লোহাগাড়া প্রতিনিধিঃ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে চট্টগ্রামে এক বিশাল নির্বাচনি জনসভায় যোগ দিয়ে দুর্নীতি, অর্থ পাচার এবং বেকারত্ব নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি ও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সোমবার লোহাগাড়ার পদুয়ায় আয়োজিত সভায় তিনি ঘোষণা করেন, জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট ক্ষমতায় গেলে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে এনে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করা হবে।
দুর্নীতিবাজদের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, “ইনসাফের সরকার গঠনের সুযোগ পেলে লুটেরাদের পেটের ভেতর হাত ঢুকিয়ে পাচার করা সব অর্থ বের করে আনা হবে।” তিনি আরও জানান, রাস্তাঘাট নির্মাণে কোনো নয়ছয় বরদাশত করা হবে না। জনপ্রতিনিধি ও তাদের পরিবারের বার্ষিক আয়-ব্যয় জনগণের সামনে প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক করা হবে।
দুর্নীতি দমনের রূপক উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, “আমরা লেজ ধরে টানাটানি করব না, বরং কানের দুই পাশে থাকা মাথা ধরে টান দেব। মাথা অর্থাৎ নেতৃত্ব ঠিক হলে গোটা সমাজ ঠিক হয়ে যাবে।”
যুবকদের বিষয়ে শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা যুবকদের বেকার ভাতা দিয়ে অপমান করতে চাই না। ২৪-এর বিপ্লবের যুবকরা খয়রাত চায়নি, তারা মেধার স্বীকৃতি চেয়েছে। আমরা তাদের আধুনিক প্রশিক্ষণ ও মর্যাদাকর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করব যাতে তারা গর্ব করে বলতে পারে—আমিই বাংলাদেশ।”
১২ তারিখের নির্বাচনকে দেশের ভাগ্য পরিবর্তনের দিন হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন: জামায়াত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করার পক্ষে। তার মতে, “হ্যাঁ মানে আজাদী, আর না মানে গোলামী।” ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের বিজয়ী করে ইনসাফ ভিত্তিক সরকার গঠনের ডাক দেন তিনি। ১৩ তারিখ থেকে দেশে কোনো চাঁদাবাজির স্থান হবে না বলে তিনি সতর্ক করেন। যারা এই পথে আছে তাদের সুস্থ জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানান তিনি।
বিএনপির নাম উল্লেখ না করে তাদের নির্বাচনি অবস্থানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “অনেকে আগে গণভোট চায়নি, এখন পরিস্থিতির চাপে পড়ে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলতে শুরু করেছে।”
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আয়োজনে এই সভায় সভাপতিত্ব করেন এলডিপি সভাপতি অলি আহমদ। সভায় শফিকুর রহমান দক্ষিণ চট্টগ্রামের জোটগত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন। লোহাগাড়া ছাড়াও এদিন তিনি কক্সবাজার, মহেশখালী ও সীতাকুণ্ডে নির্বাচনি সভায় বক্তব্য রাখেন।

