হবিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ আসন্ন সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা নির্বাচিত হলে তারা রাজকীয় সুযোগ-সুবিধা বর্জন করবেন বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। আজ রোববার দুপুরে হবিগঞ্জ নিউ ফিল্ড মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই ঐতিহাসিক অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
জনপ্রতিনিধিদের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমাদের অঙ্গীকার স্পষ্ট। জামায়াতের কোনো সদস্য এমপি বা মন্ত্রী হলে তিনি এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা প্রতি বছর আয়-ব্যয়ের হিসাব জনগণের সামনে প্রকাশ করবেন। জনগণের সম্পদের ওপর কারো হাত দেওয়ার অধিকার নেই।” তিনি আরও যোগ করেন, “এমপি-মন্ত্রীদের জন্য বরাদ্দকৃত স্বল্পমূল্যের প্লট কিংবা শুল্কমুক্ত বিলাসবহুল গাড়ি আমরা গ্রহণ করব না। সাধারণ মানুষ যেভাবে চলে, আমরাও সেভাবে চলব।”
ভোটের রাজনীতির প্রচলিত সংস্কৃতিকে কটাক্ষ করে জামায়াত আমির বলেন, “নির্বাচনের আগে ভোটারদের দেখলে অনেকে ‘ভাই ভাই’ বলে জড়িয়ে ধরে। কিন্তু ভোট শেষ হলে ভাই তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষকে একটু ‘শালার’ মর্যাদাও দেওয়া হয় না। জামায়াত এমন প্রতারণার রাজনীতি করে না। আমরা চরম দুঃসময়েও দেশত্যাগ করিনি, জনগণের পাশে ছিলাম এবং থাকব।”
বিগত সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “গত সাড়ে ১৫ বছরে দেশ থেকে ২৮ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। এই টাকা দেশের ১৮ কোটি মানুষের সম্পদ। এমনকি আজ যে শিশুটি জন্ম নিয়েছে, তারও এই টাকায় অংশ আছে। আমরা ক্ষমতায় গেলে পাচার হওয়া সম্পদ ফিরিয়ে আনতে কাজ করব।”
জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন: আবু সাইদ, মুগ্ধ ও আবরার ফাহাদের হত্যাকারীদের কঠোর বিচারের মুখোমুখি করা হবে। ফুটপাত থেকে শুরু করে বড় ব্যবসায়ী—কারো ওপর আর চাঁদাবাজি চলবে না। ব্যবসায়ীরা শান্তিতে ঘুমাতে পারবেন। বেকার ভাতার কার্ড দিয়ে যুবকদের ‘বেইজ্জত’ না করে তাদের হাতে মর্যাদাপূর্ণ কাজ তুলে দেওয়া হবে। গ্রামে গ্রামে কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলা হবে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে কাউকে অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হবে না। যোগ্যতা অনুযায়ী সবাই সমান সুযোগ পাবে।
নারীদের হিজাব ইস্যুতে আক্রমণকারীদের কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, “যারা মা-বোনদের ইজ্জত রক্ষা করতে দেয় না বা হিজাব খুলতে চায়, তারা কি কোনো মায়ের গর্ভে জন্ম নেয়নি? প্রয়োজনে জীবন দেব, তবুও মায়ের ইজ্জত রক্ষা করব।”
নির্বাচনী পরিবেশ নষ্টকারীদের বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “যদি কেউ ভোট দিতে বাধা দেয়, তবে তাদের আগে উচিত শিক্ষা দেবেন, তারপর পুলিশের হাতে সোপর্দ করবেন। আর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে বলব, জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে ফল কখনো ভালো হয় না।”
হবিগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মুখলিছুর রহমানের সভাপতিত্বে উক্ত জনসভায় সিলেট ও হবিগঞ্জের বিভিন্ন আসনের প্রার্থীরা বক্তব্য দেন।

