‘যুবসমাজ ফাঁসির রশি নিয়ে প্রস্তুত, সাহস থাকলে দেশে ফিরুন’
বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরার চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “দেশ ছেড়ে পালানোর পর থেকে ‘এই আসলাম’ বলে বলে তিনি প্রতিনিয়ত ধোঁকা দিচ্ছেন। এভাবে ইতোমধ্যে তিনি ১৩ বার ফেল করেছেন। আসুন, দেশের যুবসমাজ আপনার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে—তারা ফাঁসির রশি নিয়ে প্রস্তুত আছে।”
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর ফলপট্টি এলাকায় ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের মিরপুর জোন আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের দাবিতে এই জনসভার আয়োজন করা হয়।
বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আওয়ামী ফ্যাসিবাদ দেশ ও জাতির ঘাড়ে জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসেছিল। গত ৭ জানুয়ারির প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় বুকিং নেওয়ার পর সাধারণ মানুষের মনে চরম হতাশার সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু আল্লাহ তাআলা তাঁর রহমত থেকে নিরাশ হতে নিষেধ করেছেন। এরপরই মুক্তির বার্তা নিয়ে এসেছিল রক্তঝরা জুলাই।”
তিনি আরও যোগ করেন, “জুলাই কোনো সাধারণ ঘটনা ছিল না, এটি এসেছিল ঘূর্ণিঝড় হয়ে। বৈষম্যমুক্ত ন্যায়-ইনসাফের সমাজ প্রতিষ্ঠা, খুন, গুম, হত্যা, সন্ত্রাস এবং ‘আয়নাঘর’ থেকে জাতিকে মুক্ত করতেই জুলাই অভ্যুত্থান হয়েছিল। আর এই ঝড়ে তাসের ঘরের মতো উড়ে গেছে ফ্যাসিবাদ।”
বর্তমান সরকারকে জুলাই বিপ্লবের ফসল হিসেবে স্মরণ করিয়ে দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, “সরকার এখন গণভোটের রায়কে অবৈধ বলছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। অথচ প্রধানমন্ত্রী নিজেই গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছেন। গণভোট অবৈধ হলে এই সরকার ও সংসদ—সবই অবৈধ হয়ে যায়। গোশত হালাল কিন্তু ঝোল হারাম—এমনটা হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। গণভোট হারাম হলে সরকারও হারাম, আর সরকার হারাম হলে দেশে কোনো বৈধ শাসন থাকে না।”
তিনি সরকারকে অবিলম্বে টালবাহানা পরিহার করে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান এবং সতর্ক করে বলেন, “জনগণের অভিপ্রায়ই সবার ওপরে। সরকারের উচিত জুলাই বিপ্লবের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা, অন্যথায় তাদের চড়া মূল্য দিতে হবে।”
জুলাই গণহত্যার বিচারের গতি ত্বরান্বিত করার জোর দাবি জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই যোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান, তাদের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মানে ভূষিত করতে হবে। আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারীদের সুচিকিৎসা এবং সম্মানজনক জীবিকার ব্যবস্থা সরকারকেই করতে হবে। শহীদদের জাতীয় বীরের মর্যাদা দিতে হবে এবং তাঁদের স্মরণে মিরপুরসহ রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নামকরণ করতে হবে।
ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির ও ডিএনসিসিতে জামায়াত মনোনীত মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমানের পরিচালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাসেম আরমান (সংসদ সদস্য, ঢাকা-১৪). কর্নেল (অব.) আব্দুল বাতেন (সংসদ সদস্য, ঢাকা-১৬), সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান, অধ্যাপক হারুন অর রশীদ খান ও আব্দুর রহমান মূসা
এছাড়া সমাবেশে ছাত্রশিবিরের সাবেক ও বর্তমান নেতৃবৃন্দ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ মাহফুজুর রহমান ও শহীদ পরিবারের সদস্যগণ উপস্থিত থেকে তাঁদের বক্তব্য তুলে ধরেন।

