মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার: অনিয়ম ও হয়রানির প্রতিবাদ করায় সাজানো মামলার অভিযোগ জামায়াত নেতাদের, অভিলম্ব মুক্তির দাবি

0
মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার: অনিয়ম ও হয়রানির প্রতিবাদ করায় সাজানো মামলার অভিযোগ জামায়াত নেতাদের, অভিলম্ব মুক্তির দাবি

বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানি ও চরম অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদ করার জেরে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আক্তারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। তাকে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দেয়ার পাশাপাশি সাজানো মামলা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানিয়েছেন দলটির শীর্ষ নেতারা।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাত ৯টা ৮ মিনিটে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেয়া এক পোস্টে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে অবিলম্বে মুক্তি দিন। সাজানো মামলা প্রত্যাহার করুন। তিনি কাউকে শারীরিকভাবে নাজেহাল করেননি, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”

বিমানবন্দরের সাম্প্রতিক বিশৃঙ্খলা তুলে ধরে জামায়াত আমির লেখেন, সেখানে অনিয়ম ও যাত্রী হয়রানির স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে বলেই ইতিমধ্যে দুজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। মেজর আখতারুজ্জামান কেবল প্রবাস ফেরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি অন্যায় আচরণ ও চরম অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদ করেছিলেন। বিমানবন্দরের উপস্থিত যাত্রীরাই এর ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শী। অনিয়ম চাপা দিতে যদি এই হয়রানিমূলক গ্রেপ্তার করা হয়ে থাকে, তবে তা জাতির জন্য একটি অশনি সংকেত বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

পৃথক এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারও এই গ্রেপ্তারের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফেরেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আখতারুজ্জামান। ইমিগ্রেশন ও লাগেজ কাউন্টারে অন্যান্য সাধারণ যাত্রীর মতো তিনিও চরম ভোগান্তির শিকার হন। সেখানে যাত্রী হয়রানি ও লাগেজ নিয়ে অসদাচরণের প্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ বিমান বাংলাদেশের দুই কর্মকর্তাকে বরখাস্তও করেছে। পুলিশ যেখানে বলছে সিসিটিভি ফুটেজ ও আলামত দেখে তদন্ত করা হবে, সেখানে কোনো নিরপেক্ষ তদন্তের আগেই উদ্দেশ্যমূলক মামলা দিয়ে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে গ্রেপ্তার করা অত্যন্ত দুঃখজনক।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সার্বিক সেবা নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ইমিগ্রেশনে প্রবাসীদের অপ্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদ, অসম্মানজনক আচরণ, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় রাখা এবং লাগেজ থেকে মূল্যবান সামগ্রী চুরির মতো বহু অভিযোগ রয়েছে। নারী, বয়স্ক ও অসুস্থ যাত্রীদের ভোগান্তি এখন নিত্যদিনের চিত্র।

তিনি অবিলম্বে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে নিঃশর্ত মুক্তি দেয়ার পাশাপাশি বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানির নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বরখাস্তসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।