টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কট বিতর্ক: তদন্ত প্রতিবেদনে একক সিদ্ধান্ত্যের দায় আসিফ নজরুলের ওপর, নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন সাবেক উপদেষ্টা

0
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কট বিতর্ক: তদন্ত প্রতিবেদনে একক সিদ্ধান্ত্যের দায় আসিফ নজরুলের ওপর, নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন সাবেক উপদেষ্টা

ক্রীড়া ডেস্ক: ভারতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ জাতীয় দলের অংশগ্রহণ না করার পেছনে তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুলের একক সিদ্ধান্তকে দায়ী করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দীর্ঘ ২২ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন প্রকাশ্যে আসার পর ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। তবে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দীর্ঘ ব্যাখ্যা দিয়ে এই সিদ্ধান্তকে ‘দেশের স্বার্থে নেওয়া সঠিক সিদ্ধান্ত’ বলে দাবি করেছেন আসিফ নজরুল।

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অতিরিক্ত সচিব ড. এ কে এম অলি উল্লাহর নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের কমিটি (অন্য দুই সদস্য—ব্যারিস্টার ফয়সাল দস্তগীর ও সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার) তদন্তে উল্লেখ করেছে।

সংবেদনশীল এই সিদ্ধান্তটি কোনো সম্মিলিত আলোচনা, টেকনিক্যাল কমিটি বা খেলোয়াড়দের মতামতের ভিত্তিতে নেওয়া হয়নি। ড. আসিফ নজরুল এককভাবে ভারতে দল না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং বিসিবি তা গ্রহণে বাধ্য হয়।

তদন্তে উঠে আসে, জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা বিশ্বকাপে অংশ নিতে শতভাগ প্রস্তুত ছিলেন। বিসিবি ও ক্রীড়া উপদেষ্টার চাপে তাদের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের বড় সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে।

ইতিপূর্বে ১০ ফেব্রুয়ারি ঢাবির এক অনুষ্ঠানে আসিফ নজরুল দাবি করেছিলেন—খেলোয়াড় ও বোর্ড যৌথভাবে এ ত্যাগ স্বীকার করেছে। তদন্ত কমিটি এই দাবিকে তথ্যগত অসত্য ও দায় এড়ানোর চেষ্টা বলে চিহ্নিত করেছে।

‘সিদ্ধান্তটি আমারই ছিল এবং এটি সঠিক’ — পাল্টা যুক্তিতে আসিফ নজরুল

তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর মঙ্গলবার রাত ৮টা ৪৮ মিনিটে ফেসবুকে ‘টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: কেন ভারতে যাইনি?’ শীর্ষক এক স্ট্যাটাসে তৎকালীন পরিস্থিতির ব্যাখ্যা প্রদান করেন আসিফ নজরুল। তিনি লেখেন, এই সিদ্ধান্তের কথা তিনি আগেই প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন, তাই নতুন করে তদন্ত প্রতিবেদনের উদ্দেশ্য নিয়ে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন।

উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর চাপে মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনাকে বাংলাদেশের জন্য অবমাননাকর বলে আখ্যা দেন তিনি। এরপর আইসিসির নিরাপত্তা প্রতিবেদনেও মোস্তাফিজের উপস্থিতি, সমর্থক ও আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ঘিরে নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা স্বীকার করা হয়েছিল।

“একটি ছোট দেশ বলে কেউ ইচ্ছেমতো অপমান করবে আর আমরা তা মেনে নেব না”—উল্লেখ্য করে তিনি বলেন, সমমর্যাদার ভিত্তিতে ভারতের সাথে সম্পর্ক সম্ভব, মাথা নত করে নয়।

ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ দলকে পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বা সফরে নেওয়ার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো যোগাযোগ বা সদিচ্ছা প্রকাশ করা হয়নি।

জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৎকালীন দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিবেশ স্থিতিশীল রাখা এবং জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি স্পষ্ট জানান, ভারতের বদলে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ সরিয়ে নেওয়ার নিরপেক্ষ প্রস্তাব আইসিসি নাকচ করায় বাংলাদেশের সামনে আর কোনো সম্মানজনক বিকল্প ছিল না।