ক্রীড়াঙ্গনের হারানো ঐতিহ্য ফেরাতে ভোর বেলাতেই খেলার মাঠে প্রতিমন্ত্রী আজাদ

0
ক্রীড়াঙ্গনের হারানো ঐতিহ্য ফেরাতে ভোর বেলাতেই খেলার মাঠে প্রতিমন্ত্রী আজাদ

পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ ক্রীড়াঙ্গনের হারানো সোনালী ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার প্রত্যয়ে পঞ্চগড়ের বোদায় খেলায় মাঠে নেমে অংশ নিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) পঞ্চগড়ের বোদা সরকারি পাইলট মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে ভোরে প্রতিমন্ত্রীর ফুটবল ও ব্যাডমিন্টন খেলার একাধিক ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। এটি একটি অত্যন্ত ইতিবাচক ও অনুপ্রেরণামূলক দৃশ্য। একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব যখন তাঁর পদের গাম্ভীর্য ও প্রটোকল দূরে সরিয়ে সাধারণ মানুষের সাথে খেলার মাঠে নামেন, তখন তা জনসাধারণের সাথে তাঁর দূরত্ব ঘুচিয়ে দেয়।

প্রতিমন্ত্রী নিজেই ক্রীড়াবিদের বেশে খেলায় অংশ নেন। তাঁর এই সাধারণ ও স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি এলাকা জুড়ে তরুণ সমাজ ও সাধারণ খেলোয়াড়দের মাঝে নতুন উদ্দীপনা, উৎসাহ এবং মেলবন্ধনের সৃষ্টি করেছে।

খেলায় প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদের সঙ্গে অংশ নেন বোদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রবিউল ইসলাম, বোদা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক দিলরেজা ফেরদৌস চিন্ময়, সাংগঠনিক সম্পাদক মারুফ অনু এবং বোদা উপজেলার ক্রীড়াঙ্গনের একসময়ের কৃতি খেলোয়াড়রা।

একই মাঠে বর্তমান ও সাবেক খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণে তৈরি হয় ভিন্নরকম আবহ। পুরোনো দিনের ক্রীড়াঙ্গনের স্মৃতিচারণের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। মাঠে উপস্থিত ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যেও এ আয়োজন ঘিরে ছিল ব্যাপক আগ্রহ।

স্থানীয় ক্রীড়াবিদ ও সংগঠকদের মতে, পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) ডেপুটি চেয়ারম্যান ফরহাদ হোসেন আজাদ এমপি প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এলাকার ক্রীড়াঙ্গনকে সক্রিয় করে তুলতেও আগ্রহী। সময় পেলেই ভোরে মাঠে উপস্থিত হয়ে স্থানীয় তরুণ ও অপেশাদার খেলোয়াড়দের সঙ্গে খেলাধুলায় অংশ নিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি খেলোয়াড়দের উৎসাহিত করা এবং ক্রীড়াচর্চার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।

পঞ্চগড় জেলার ক্রীড়াঙ্গনের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সাবেক ক্রীড়াবিদরাও। নব্বইয়ের দশকে বোদা উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার কয়েকবারের শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড় হাসানুজ্জামান লাতু জেলার ক্রীড়াঙ্গনের সোনালী অতীত স্মরণ করে বলেন, পঞ্চগড় জেলা একসময় খেলাধুলায় ইতিহাস সৃষ্টি করেছিল।

এ এলাকার অনেক কৃতী খেলোয়াড় ঢাকা লীগ ও দ্বিতীয় বিভাগে সাফল্যের সঙ্গে খেলেছেন। কিন্তু মাঝখানে অনেক বছর আমরা খেলাধুলায় পিছিয়ে পড়েছি। তিনি আরও বলেন, এই অবস্থা থেকে উত্তরণে মাননীয় পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নিজেই ভোরবেলা মাঠে উপস্থিত হয়ে হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছেন এবং প্রশাসনিক উদ্যোগ নিচ্ছেন। তাঁর এই উদ্যোগ নতুন ও সাবেক ক্রীড়াবিদদের জন্য ভীষণ অনুপ্রেরণার।

উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক দিলরেজা ফেরদৌস চিন্ময় বলেন, প্রতিমন্ত্রীর শত ব্যস্ততার মাঝে হঠাৎ ভোর বেলা খেলোয়াড়দের প্র্যাকটিস সেশনে অংশ নিয়ে সশরীরে হাজির হওয়া তরুণ খেলোয়াড়দের মধ্যে এক ধরনের উন্মাদনা তৈরি করেছে। যা নিঃসন্দেহে মাদক থেকে রক্ষা সহ ভালো মানের খেলোয়াড় তৈরিতে বিশেষ সহায়ক হবে বলে মনে করি।

স্থানীয় সচেতন মহল ও ক্রীড়াপ্রেমীরা মনে করছেন, একজন প্রতিমন্ত্রীর এভাবে মাঠে নেমে সাধারণ মানুষের সাথে খেলাধুলা করা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। জেলার ঝিমিয়ে পড়া ক্রীড়াঙ্গনে এক নতুন বিপ্লব বয়ে আনবে। নিয়মিত খেলাধুলার আয়োজনের পাশাপাশি স্থানীয় মাঠগুলোকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা গেলে তরুণদের মধ্যে ক্রীড়ার প্রতি আগ্রহ আরও বাড়বে। একই সঙ্গে বিভিন্ন বয়সের খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হলে স্থানীয় পর্যায়ে নতুন প্রতিভা বিকাশের পথও সুগম হবে।

ক্রীড়া শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, তরুণদের শৃঙ্খলা, দলগত চেতনা ও সুস্থ প্রতিযোগিতার মানসিকতা গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই মাঠকেন্দ্রিক কার্যক্রম বাড়ানোর মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন ক্রীড়াসংশ্লিষ্টরা।

বোদা উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার এমন উদ্যোগে একদিকে যেমন পুরোনো ক্রীড়াঙ্গনের স্মৃতি ফিরে এসেছে, অন্যদিকে নতুন প্রজন্মের সামনে তৈরি হয়েছে মাঠে ফেরার অনুপ্রেরণা। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত অব্যাহত থাকলে বোদার ক্রীড়াঙ্গনে আবারও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরবে এবং একসময়ের গৌরবময় ক্রীড়া ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের হাত ধরে এগিয়ে যাবে।

স্থানীয় সচেতন মহল ও ক্রীড়াপ্রেমীরা আশা করছেন, প্রতিমন্ত্রীর এই উদ্যোগ ধারাবাহিকতা পেলে পঞ্চগড়ের ঝিমিয়ে পড়া ক্রীড়াঙ্গনে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসবে। একই সঙ্গে খেলাধুলার প্রতি তরুণদের আগ্রহ বাড়বে, বিকশিত হবে নতুন প্রতিভা এবং জাতীয় পর্যায়ে পঞ্চগড়ের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ তৈরি হবে।