আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে আবারো যুদ্ধের দামামা বাজতে শুরু করেছে। একদিকে মার্কিন নৌবাহিনীর বিশাল এক ‘আর্মাডা’ বা রণতরীর বহর ইরানের অভিমুখে যাত্রা করেছে, অন্যদিকে পাল্টা জবাবে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) তাদের সর্বোচ্চ সমরশক্তির জানান দিচ্ছে। আইআরজিসি-র প্রধান কমান্ডার মেজর জেনারেল মোহাম্মদ পাকপুর স্পষ্টভাবে সতর্ক করে বলেছেন, তার বাহিনী যেকোনো মুহূর্তে আঘাত হানার জন্য ‘ট্রিগারে হাত রেখে’ প্রস্তুত।
গতকাল বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে উদ্দেশ্য করে এক কঠোর বার্তায় জেনারেল পাকপুর বলেন, “শত্রুদের কোনো প্রকার ভুল হিসাব করার সুযোগ নেই। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র এবং বর্ণবাদী জায়নিস্ট শাসনব্যবস্থা যেন ইতিহাসের অভিজ্ঞতা এবং গত জুনের ১২ দিনের যুদ্ধ থেকে শিক্ষা নেয়।” তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, কোনো ধরনের হঠকারী পদক্ষেপ নেওয়া হলে তার পরিণতি হবে যন্ত্রণাদায়ক ও অনুশোচনার।
দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম থেকে ফেরার পথে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন-সহ একটি শক্তিশালী নৌবহর মধ্যপ্রাচ্যের দিকে পাঠানো হচ্ছে। ট্রাম্পের ভাষায়, “আমরা ইরানকে খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করছি। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বড় একটি সামরিক ফোর্স সেখানে মোতায়েন করা হচ্ছে।”
এর আগে গত সপ্তাহে ইরান সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের পরিকল্পিত মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করায় ট্রাম্প হামলার হুমকি থেকে কিছুটা সরে এলেও কূটনৈতিক ও সামরিক চাপ অব্যাহত রেখেছেন।
ইরানের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, ডিসেম্বরের শেষদিকে শুরু হওয়া বিক্ষোভকে দাঙ্গায় রূপ দিতে নেপথ্যে কাজ করেছে ওয়াশিংটন ও তেল আবিব। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এক নিবন্ধে দাবি করেছেন:
ট্রাম্পের হুমকি মূলত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে ‘সর্বাধিক রক্তপাত’ ঘটানোর উসকানি দিচ্ছে। ইসরায়েলের স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রকে মধ্যপ্রাচ্যের আরেকটি যুদ্ধে টেনে নেওয়ার নীল নকশা করা হচ্ছে। আইআরজিসি-র প্রতিরক্ষা শক্তি এখন যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি সুসংহত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবহরের এই উপস্থিতি এবং ইরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি অঞ্চলটিকে এক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আইআরজিসি প্রধানের মতে, তাদের এই প্রস্তুতি কেবল সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছে।
“আমাদের প্রতিরক্ষা শক্তি ও নিরাপত্তা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে আরও শক্তিশালী। আমেরিকান-জায়নিস্টদের কোনো উসকানি সহ্য করা হবে না।” — মেজর জেনারেল মোহাম্মদ পাকপুর, প্রধান কমান্ডার, আইআরজিসি।

