আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মার্কিন নৌ-অবরোধ ও হুমকির মুখে নতি স্বীকার না করার চূড়ান্ত বার্তা দিল ইরান। সোমবার পাকিস্তানের ইসলামাবাদে প্রস্তাবিত শান্তি আলোচনায় কোনো প্রতিনিধি দল না পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে তেহরান। রোববার (১৯ এপ্রিল) ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি এই খবর নিশ্চিত করেছে।
এর ফলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদে শুরু হতে যাওয়া প্রথম বড় কোনো কূটনৈতিক উদ্যোগ ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
ইরানের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, একতরফা মার্কিন নৌ-অবরোধ বহাল রেখে কোনো আলোচনায় বসা অর্থহীন। তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয় ইরানের সমুদ্রবন্দরগুলোতে যতক্ষণ মার্কিন অবরোধ থাকবে, ততক্ষণ কোনো কূটনৈতিক তৎপরতা চলবে না। ওয়াশিংটনকে আগে ‘শত্রুতা’ বন্ধের প্রমাণ দিতে হবে, তারপরই কেবল টেবিলের ওপারে বসবে তেহরান।
আগামীকাল সোমবার মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের ইসলামাবাদে পৌঁছানোর কথা। হোয়াইট হাউস এই বৈঠককে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংকট নিরসনের ‘শেষ সুযোগ’ হিসেবে অভিহিত করলেও, ইরানের অনুপস্থিতিতে এই আয়োজন এখন অনেকটাই একতরফা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কূটনীতির মাঠ ছাপিয়ে এখন যুদ্ধের দামামা বাজছে মধ্যপ্রাচ্যে। ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও অবকাঠামো ধ্বংসের হুমকির পাল্টা জবাব দিয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনী।
ইরানের সামরিক কমান্ড তাদের বাহিনীকে ‘সর্বোচ্চ সতর্ক’ অবস্থানে থাকার নির্দেশ দিয়েছে। সেনাপ্রধানের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ইরানি সেনারা এখন ‘আঙুল ট্রিগারে’ রেখে যে কোনো পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে প্রস্তুত।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র একদিকে কঠোর অবরোধ ও সামরিক হুমকি দিচ্ছে, অন্যদিকে আলোচনার প্রস্তাব দিচ্ছে—এই ‘দ্বিমুখী নীতি’ তেহরানকে আরও কঠোর অবস্থানে ঠেলে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইরানি জাহাজ জব্দ করার ঘটনায় উত্তেজনা এখন স্ফুটনাঙ্কে পৌঁছেছে।
ইসলামাবাদে মার্কিন প্রতিনিধি দল পৌঁছানোর আগেই ইরানের এই ‘না’ সূচক অবস্থান প্রমাণ করে যে, নিকট ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির সম্ভাবনা ক্ষীণ, বরং সংঘাতের আশঙ্কা অনেক বেশি।

